উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড, মরাগাছতলা এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসা ও স্থানীয়দের জমিতে অবৈধ বসতি থাকার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৭ টা থেকে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।

অভিযানকালে ক্যাম্পের বাইরে বসবাসরত ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ২১১ জন, মহিলা ১৯৬ জন এবং শিশু ২০০ জন।আটককৃতদেরকে নির্ধারিত ক্যাম্পে প্রেরণের জন্য এপিবিএন পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া বা জমি প্রদান করার দায়ে ১৩ জন বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করে মোট এক লাখ সাতান্ন হাজার (১,৫৭,০০০) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৩ জনকে কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অবৈধ বাসা ভাড়া বা জমি প্রদানের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত মালিকদের নাম ও দণ্ড:
আব্দুর রশিদ রহমান (৭ দিনের কারাদণ্ড), শাহিনা আক্তার (১০,০০০ টাকা জরিমানা), সাজু বেগম (১০,০০০ টাকা জরিমানা), মো. হারুন (৭,০০০ টাকা জরিমানা), সেলিনা আক্তার (৫,০০০ টাকা জরিমানা), মো. হামিদুল (৫,০০০ টাকা জরিমানা), মো. সৈয়দ আলম (২০,০০০ টাকা জরিমানা), মো. আজিজুর রহমান (৭ দিনের কারাদণ্ড), মো. নুর হোসেন (৩০,০০০ টাকা জরিমানা), আনোয়ারুল আলম (২০,০০০ টাকা জরিমানা), নুরুল আমিন (৫০,০০০ টাকা জরিমানা), মো. আব্দুল রশিদ (৩০ দিনের কারাদণ্ড), এবং মো. মঞ্জুর আলম (২০ দিনের কারাদণ্ড, ৪০ পোঁটলা গাজাসহ আটক)।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের ক্যাম্পে প্রেরণের আগে তাদের অবস্থান ও চলাচল বিষয়ে বিশদ অনুসন্ধান চলছে। বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার প্রতিরোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলে ক্যাম্পের বাইরে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।