কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পের ভেতরে সক্রিয় কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ মূলত ইয়াবা পাচার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। এ বিরোধের জের ধরে প্রায়ই খুন, গুম, অপহরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। অনেক ঘটনায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি চক্র ক্যাম্পভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ের কিছু মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, অপহরণ বাণিজ্যও নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে বেঁধে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পেলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। অপরাধ সংঘটনের পর অনেক অভিযুক্ত ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক সন্ত্রাস এখন শুধু ক্যাম্পের সমস্যা নয়, এটি পুরো কক্সবাজারের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রয়োজন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র, মাদক, অপহরণ ও সন্ত্রাস দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে