
ক্রসফায়ারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ মো. সিনহা হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনা। তারও আগে আরেকটি ক্রসফায়ারের ঘটনা মানুষের মনে নাড়া দেয়। সেটি টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনা। এ দুই ঘটনাকে সংযোজন করে ক্রসফায়ারের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দৃকের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পারফরম্যান্স।
দৃকের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এ আয়োজন করা হয়। এ সময় শহিদুল আলমের আলোকচিত্র নিয়ে পারফরমাররা রাস্তায় দাঁড়ান। ২০১০ সালে শহিদুল আলমের 'ক্রসফায়ার' প্রদর্শনীর ছবি পারফরমাররা তুলে ধরে প্রদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে সংযোজিত হয় নতুন দুটি ছবি : একটি টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের এবং অন্যটি অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ মো. সিনহার ঘটনার। প্রদর্শনী ও পারফরম্যান্সের অংশ হিসেবে ক্রসফায়ার বিষয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত নিউজের অডিও, সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক প্রেস কনফারেন্সের ছোট্ট অংশ এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের পরিবারের ধারণকৃত অডিও বাজানো হয়। গুলির শব্দে পারফরমাররা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রতিবাদী প্রদর্শনী ও পারফরম্যান্সের শুরুতে আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম বলেন, "দৃক তার জন্মলগ্ন থেকেই সমাজের ইতিবাচক রূপান্তর ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে 'ক্রসফায়ার' নিয়ে যখন প্রদর্শনী করি, ভাবিনি ১০ বছর পর সেটি এভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে। ৫ লাখ, ১০ লাখ, ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে পুলিশের কাছে ক্রসফায়ার থেকে প্রাণভিক্ষা চাইতে হবে। উচ্চতর আদালতকে এভাবে দিনের পর দিন বুড়ো আঙুল দেখানো হবে। এই অরাজকতা থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। সোচ্চার হতে হবে।