রাষ্ট্র কি শুধু নিষেধাজ্ঞা দিতে জানে নাকি মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও করবে? পরিবেশ রক্ষা অবশ্যই জরুরি কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কি তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ? যেখানে মানুষ আধমরা সেখানে তথাকথিত পরিবেশ দিয়ে কি হবে?
আজ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে খ্যাত সেন্টমার্টিনের মানুষের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সেখানে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ, সামনে প্রায় দুই মাসের জন্য মাছ ধরা বন্ধ। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছে~~
এই দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা কী দিয়ে চলে? তাদের প্রধান আয়ের উৎসই তো পর্যটন শিল্প ও এই মৎস্য আহরণ। এর মানে দাঁড়ালো সেন্ট মার্টিনের মানুষের প্রায় সব আয়ের পথ রাষ্ট্রকাঠামো কর্তৃক একসাথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিন এর মানুষ কি বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের বাইরের কেউ! কেন তাদের সাথে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকার ব্যবস্থা বিমাতা সুলভ আচরণ করা যাচ্ছে বছরের পর বছর!
প্রশ্ন হচ্ছে~~এখন তারা কী করবে?
তাদের পরিবার কীভাবে চলবে?
তারা কী খাবে, কী পরবে?
সামনেই কোরবানির ঈদ! যা আমাদের সমাজে শুধু ধর্মীয় উৎসব না, পরিবারের জন্য একটু আনন্দের উপলক্ষও। কিন্তু দ্বীপের সেই মানুষগুলোর ঘরে কি এবার একটুকরো মাংস উঠবে? তাদের শিশুদের গায়ে কি নতুন কাপড় জুটবে?
মানুষকে এমন অবস্থায় ফেলে দেওয়া—যেখানে তাদের সামনে অনিশ্চয়তা, অভাব আর হতাশা ছাড়া কিছুই নেই......এটা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
আমি এই অমানবিক পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।✊
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি--
➤ দ্রুত বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
➤ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিতে হবে
➤ স্থানীয় মানুষের সাথে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে
মনে রাখতে হবে মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে!!.....একটাকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকটাকে ধ্বংস করা কোনো সমাধান হতে পারে না..না.....নাহ!! ফুলস্টপ!!
রহমত উল্লাহ বিজয়
শিক্ষার্থী, পলিটিক্যাল সায়েন্স
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়!
✒️১৬ই এপ্রিল,২০২৬ইং~(বিকাল ৩:৩০মিনিট)