
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগে কয়েকটি গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছে জাগরণী সংস্থা নামের একটি ভুয়া এনজিও।
এনজিওটি গত দুই সপ্তাহ আগে উপজেলার মীরবাগ মহেশা গ্রামে সিদ্দিক মিয়ার বাড়ি ভাড়া করে কার্যক্রম শুরু করে। কার্যক্রমের দুই সপ্তাহের মধ্যে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে এনজিওটির কর্মকর্তারা অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, মীরবাগ, মহেশা, ধর্মেশ্বর, সোনাতন, কুর্শা, বাহাগিলী, গোপাল, চণ্ডিপুরসহ কয়েকটি গ্রামের তিন শতাধিক মানুষকে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের থেকে জামানত বাবদ ১০-২০ হাজার ও সদস্য ফি বাবদ ২শ’ টাকা করে আদায় করে। এভাবে তারা প্রায় ৪০ লাখ টাকা আদায় করে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার বিকেল থেকে সংস্থাটির প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারী পালিয়ে যায়। তাদের খোঁজ পাচ্ছেন না কেউ।
উপজেলার মহেশা গ্রামের মফিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দারা বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে জাগরনী সংস্থা মহেশা গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম দিকে ছিলেন সংস্থার ম্যানেজার জামান হোসেন ও রাকিবসহ সাত-আটজন মাঠকর্মী।
প্রতারণার শিকার মহেশা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শ্যামল, মনির হোসেন, সাইফুল ইসলাম বলেন, গত রোববার তারা এনজিওর ম্যানেজার জামান হোসেন কাছে ১০ হাজার টাকা জামানত ও সদস্য ফি বাবদ দুইশত টাকা জমা দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনাতন গ্রামের আনোয়ারা, নিলুফা বেগম, উম্মে কুলছুম, জোসনা বেগম প্রত্যেকে বিশ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে গেছে ওই এনজিওর লোকজন।
তারা বলেন, গ্রামের শতাধিক নারীদের ঋণ দেয়ার কথা বলে সংস্থার লোকজন জামানত ও সদস্য ফি জমা নিয়েছে।
সোনাতন গ্রামের আনোয়ারা বেগম ও শেফালী বেগম জানান, মীরবাগ এলাকায় ওই সংস্থাটি থেকে সহজ শর্তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে, কয়েকদিন আগে এমন তথ্য তিনি পান। এরপর ৪ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ অন্য কাগজপত্র জমা দেন। বৃহস্পতিবার ঋণ পাওয়ার কথা ছিল। ঋণ পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি ধার করে গত রবিবার ২০ হাজার টাকা জমা দেন।
মহেশা গ্রামের কাদের বলেন, সংস্থার লোকজন পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আজ বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন নারী-পুরুষ সিদ্দিক মিয়ার বাড়িতে এনজিও’র কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। ঋণ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাড়ির মালিক সিদ্দিক মিয়া বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝিতে অপরিচিত এক ব্যক্তি এসে এনজিও কার্যালয় করার জন্য তিনটি রুম ভাড়া নেয়। বৃহস্পতিবার তাদের বড় বস এসে অফিস উদ্বোধন করে ভাড়ার এগ্রিমেন্ট করা কথা ছিল। তার আগেই কাউকে কিছু না বলে সবাই পালিয়ে যায়।
কুর্শা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন সরকার বলেন, ‘জাগরনী সংস্থা নামে ভুয়া একটি এনজিও গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে শুনেছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম. নাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘জাগরনী সংস্থা নামে কোনো এনজিওর ব্যাপারে কিছুই জানা নেই। আর এমন কোনো সংস্থা টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।’

পাঠকের মতামত