ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৬/১১/২০২২ ৩:৫৬ পিএম , আপডেট: ২৬/১১/২০২২ ৩:৫৮ পিএম

চলতি মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে মিয়ানমার সংকট নিয়ে এমন হুঁশিয়ারি দেন বিশ্বনেতারা। পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতির জন্য মিয়ানমারকে ‘পরিমাপযোগ্য সূচক’ ও একটি ‘নির্দিষ্ট সময়সীমা’ মেনে চলতে হবে। অন্যথা তাদের ‘একঘরে’ করা হবে।
চলতি মাসে এশিয়ায় পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। টানা ১২ দিনের সম্মেলন ঘিরে রীতিমতো আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। সম্মেলন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের তাবড় তাবড় নেতা ছুটে আসেন এ অঞ্চলে। প্রভাব বিস্তার ও নতুন নতুন অংশীদারিত্ব গড়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন ‘বড় খেলোয়াড়রা’। পিছিয়ে ছিল না ইউক্রেন অভিযানের কারণে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রাশিয়াও।

প্রথম সম্মেলনটি হলো অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস তথা আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন যা কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ৮ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এরপর ১৫ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বসে ‘গ্রুপ অব টুয়েন্টি’ তথা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন। সবশেষ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দুদিনব্যাপী এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন তথা এপেক শীর্ষ সম্মেলন যা শেষ হয় গত শনিবার (১৯ নভেম্বর)।

সম্মেলনগুলোর প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলা করা। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব ও উত্তর কোরিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ থেকে সৃষ্টি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির চরম উত্তেজনায় সেই উদ্দেশ্য অনেকটাই ঢাকা পড়েছে।

তবে ১০ দিন ধরে চলা এই তিন সম্মেলন একেবারেই বিফলে যায়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকেই বলছেন, সম্মেলনগুলোর মধ্যদিয়ে কয়েকটা ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কিছুটা প্রশমন হয়েছে। এ ছাড়া দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কূটনীতির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছয় দিনব্যাপী আসিয়ান সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মতো নেতৃত্বের উপস্থিতি সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। এবারের আসিয়ান সম্মেলনে নেতাদের প্রধান ফোকাস ছিল মিয়ানমার সংকট। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, তাইওয়ান ঘিরে আঞ্চলিক উদ্বেগ, দক্ষিণ চীন সাগর ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্মেলনের প্রথম দিনই মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসিয়ান নেতারা। তারা বলেন, মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক নিরাপত্তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে। দ্রুত শান্তিপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না করলে মিয়ানমারকে একঘরে করারও হুমকি দেন তারা।

মিয়ানমারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ছিল আসিয়ান সম্মেলনের অগ্রাধিকার। মিয়ানমার জান্তা সরকার যদিও ছয়দিনের সম্মেলনে ইউক্রেন সংঘাতের চেয়ে কম মনোযোগ পেয়েছে। মিয়ানমার আসিয়ানের সদস্য দেশ। তবে গত বছর গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর প্রতিশ্রুত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানো থেকে তাদের বিরত রাখা হয়।

সম্মেলনে আসিয়ান নেতারা একমত হয়েছেন যে, পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতির জন্য মিয়ানমারকে ‘পরিমাপযোগ্য সূচক’ ও একটি ‘নির্দিষ্ট সময়সীমা’ মেনে চলতে হবে। অন্যথা তাদের ‘একঘরে’ করা হবে।

আসিয়ান নেতাদের এ কঠোর হুঁশিয়ারির পরপরই গত সপ্তাহেই সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক, এক অস্ট্রেলীয় অর্থনীতিবিদ, এক জাপানি সাংবাদিক ও অং সান সুচির সাবেক উপদেষ্টাসহ ৬ হাজারের বেশি রাজবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমার সামরিক সরকার।

জান্তার এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, ‘বিশাল সংখ্যক রাজবন্দি মুক্তি অন্ধকারে আশার আলো দেখাচ্ছে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জার্মানির আদালতে মামলা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জার্মানির আদালতে মামলা করেছে মানবাধিকার গ্রুপ ও বেশ কয়েকজন মিয়ানমারের ...