প্রকাশিত: ১২/০৪/২০১৭ ৩:৫৩ পিএম

জে,জাহেদ ফিচারেঃ
ভারতের ১১তম সাবেক রাষ্ট্রপতি এ,পি,জে আবদুল কালাম বলেছিলেন,”স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আগেই স্বপ্ন দেখতে হবে”। তাহলেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ পায়। সিংগাপুর,দুবাই জুমেরা,থাইল্যান্ড, কক্সবাজার বিচ কিংবা সেন্টমার্টিন ট্যুরিজম এলাকা ছিলোনা পুর্বে। কালের বিবর্তনে সমাজ পরিবর্তনে আজকে সব দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠেছে কোটি কোটি পর্যটন কিংবা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আশ্রয় স্থল।
বেসরকারী প্রতিষ্টান যদি ভোলা দ্বীপকে কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ বলে অবহিত করে। আমার মতে সোনাদিয়া হতে পারে ট্যুরিজম অব হার্ট ফর ওয়ার্ল্ড। কি অপুর্ব সাগরের বেলাভূমি ঝাউবীথি আর ম্যানগ্রোভ বনের সবুজ প্রকৃতি। পাখির বিচরণ অনেক পাখি বিশেষজ্ঞ বলে পাখির দ্বীপ,তরমুজ ভুমি কিংবা প্রকৃতির স্বর্গভূমি। যেখানে একদিন অবস্থান করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। সোনাদিয়ার নির্মল বায়ু আর সুপেয় পানির জলদ্বীপ আর বিশ্বে কোথাও নেই বলে মনে করি আমি।
কিছু দিন আগে আলোচিত হয়েছিলো সরকারের বড় প্রকল্পের কাজ হবে সোনাদিয়া তীরে। তৈরি হবে গভীর সমুদ্র বন্দর। দিনে দিনে স্বপ্ন দেখেছে মানুষ তাদের কর্মস্থান হবে। আয় বৃদ্ধি পাবে মাথাপিছু বেকার কমবে। সব কিছু নিরাশায় পরিণত মুলত ভারতের কারনে। আমার জানা তথ্যমতে,সোনাদিয়াতে গভীর সমুদ্র বন্দর করতে সরকারের প্রচন্ড চেষ্টা ছিলো। কিন্তু প্রতিরক্ষা বিষয় আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অনিচ্ছাসত্ত্বে বাতিল হলো সোনাদিয়া গভীর বন্দর। কেনোনা সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর হলে ভারতের নিরাপত্তা জনিত সমস্যা আর যেখানে ভারত ঘেষা গভীর সমুদ্র বন্দর হবে সেখানে চীন আসবেই।
কেনোনা বিশ্বের সব দেশে তা হয়েছে। তখন কুতুবদিয়া দ্বীপের আয়ত্বে ইংগিত করে চীন ও আমেরিকা। সুতরাং বিষয়টি রাজনৈতিক আর প্রতিরক্ষা বিষয়ক হওয়াতে বিষদ আলোচনা করা উচিতও নয়। আমি চলে আসি আমার মুল টপিকে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সাবরাং সমুদ্র সৈকতে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম ট্যুরিজম জোন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনীতিক অন্ঞল বেজা জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে আগামী কয়েক বছরে পর্যটক আকর্ষণে অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
সরকার যা ইতিমধ্যে সুনজর দিয়েছে । টেকনাফের সমুদ্র উপকুলে ১১০০একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। বেজার অধিগ্রহণ শুরু হচ্ছে। তৈরি হববে পাঁচ তারকা হোটেল,সুইমিং পুল,বিভিন্ন রাইড,ক্যাসিনো, সিনেমা, ফুড কর্নার সহ থ্রিডি গেইম সহ বিনোদন হাউস।যা গড়ে ওঠবে আধুনিক পর্যটকদের সুযোগ সুবিধার জন্য।নিরাপদ ব্যবস্থার জন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশের অনলাইন বুথ।
অন্যদিকে কেহ কি বলতে পারে সেন্টমার্টিন কিংবা টেকনাফের সাবরাং থেকে আমাদের সোনাদিয়া বড় বেশি উৎকৃষ্ট লোকেশন পর্যটকদের। জগত বিখ্যাত ইবনে বতুতা ও একদিন ভ্রমণ করে গেছে সোনাদিয়ার দক্ষিণের সমুদ্রপাড়। অথচ বার বার কোন অদৃশ্য কারনে মহেশখালি সোনাদিয়া দ্বীপ বাদ পড়ে যাচ্ছে তা বোধগম্য নয়। সেদিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন আদিনাথ ঘুরে,মহেশখালিতে হবে ডিজিটাল পার্ক বড় দুর্ভাগ্য সেটাও রামুতে নিয়ে গেছে। কাগজে কলমে স্বপ্ন দেখালে দেশ পরিবর্তন হবেনা।
বলতে ইচ্ছা করে মহেশখালিতে কি নেতা নেত্রীর অভাব, না জনপ্রতিনিধিদের অযত্ন অবহেলা আর স্বেচ্ছাচারিতায় মহেশখালির ভাগ্য বদলায় না। সোনাদিয়ার চেয়ে সেন্টমার্টিন কিংবা সাবরাং কোনদিকে উৎকৃষ্ট কেহ বুঝাতে পারবেন কি? অনেকের দৃষ্টিতে একটাই কারন জনপ্রতিনিধি আর সরকারের সুনজরের অভাব বলতে পারি। কেননা সেন্টমার্টিন কিংবা টেকনাফ সাবরাং থেকে সোনাদিয়া কম কিসে,তা নিচে পড়ে দেখেন। তাহলেই পাঠক বুঝবে সোনাদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন কত দুর।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিচিতিঃ
সেন্টমার্টিন একটি ছোট দ্বীপ যা বাংলাদেশের সীমানার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকনের ও ভ্রমণের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। এটি বঙ্গোপসাগরের উওর-পূর্ব অংশে এবং টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আরবের কিছু নাবিক ২৫০ বৎসর পূর্বে এটি আবিস্কার করে। তারা এটিকে “জাজিরা” নামকরণ করেন। বৃটিশ শাসনের সময়কালে এটিকে পুনরায় “সেন্টমার্টিন” দ্বীপ নামে নামকরণ করা হয়। দ্বীপটির স্থানীয় নাম নারিকেল জিনজিরা।
এটিই বাংলাদেশের একমাএ প্রবাল দ্বীপ। এর আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০০৬ সালের হিসেব অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৭,০০০ জন। এবং এর ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৭৫ জন। সেন্টমার্টিন তবে ছেঁড়াদ্বিপ নামে একটি সংযোজিত অংশ রয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে এখানে পৌঁছাতে প্রায় ১২ ঘন্টা সময় লাগে। এ দ্বীপের বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে মাছ ধরাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখানকার লোকদের প্রধানতম শস্য হল ধান এবং নারিকেল।
এখানে প্রচুর পরিমাণে শেওলা পাওয়া যায়। এগুলিকে শুকিয়ে সংগ্রহ করে মায়ানমারে পাঠানো হয়। অক্টোবর এবং এপ্রিল মাসে পার্শ্ববর্তী এলাকার জেলেরা দ্বীপের অস্থায়ী মার্কেটগুলোতে তাদের ধরা মাছগুলোকে বিক্রি করার উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হয়। দ্বীপের মধ্য ও দক্ষিণের এলাকা মূলত কৃষিজমির অন্তর্গত। এখানে অধিকাংশ খাবার বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্য-ভূখন্ড থেকে রপ্তানি করা হয়। যোগাযোগ, আশ্রয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সরবরাহ না থাকায় এবং বাংলাদেশের মূল-ভূখন্ড থেকে বেশ দূরে অবস্থানের দরুণ বর্ষাকালে এখানকার জনগনের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
এই দ্বীপে ভ্রমনের একমাএ উপায় হল নৌপথ। ১৯৯৯ সালের হারিকেনের পর থেকে এ দ্বীপে বিদ্যুতের সমাপ্তি ঘটে। বড় বড় হোটেলগুলোতে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে। দ্বীপটি সূর্য, সমুদ্র এবং পাম গাছ দ্বারা আচ্ছাদিত। সকাল বেলায় সূর্য উদয় এবং সন্ধায় সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য দ্বীপের লোকালয়ে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য এখানে ৫ টি শিপিং লাইন্স (শহিদ শের নিয়াবাদ, এল সি টি কুতুবদিয়া, ঈগল, ক্রিয়ারি ক্রুজ, ডাইন এবং ক্রিয়ারি সিনবাদ) চালু করা হয়েছে। ভ্রমণকারীরা চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে তাদের ট্রিপ বুক করতে পারেন ।
এ দ্বীপের সাথে জড়িয়ে দ্বীপের একটি সংযোযিত অংশ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বিপ।

পাঠকের মতামত

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

“বিগত প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নই হোক উখিয়া-টেকনাফের আগামী”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, ...

ভুল হোক ফুল

আমাদের এই ছোট্ট জীবনটার পুরোটাই হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্র।যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন আমরা নতুন বিষয় ...
Single Page Footer