প্রকাশিত: ০৬/০৪/২০১৭ ১০:৩৯ এএম

জসিম উদ্দিন টিপু :
রোড পরিবর্তন করে টেকনাফ সীমান্তের মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে এবার ইয়াবার বড় বড় চালান নিয়ে আসছেন। নাফনদীর পরিবর্তে তারা বঙ্গোপসাগরে নতুন রোড় আবিস্কার করেছেন বলে জানাগেছে। মাছ ধরার ট্রলার এবং আমদানীকৃত পণ্যের বোটে করে বঙ্গোপসাগরে আবিস্কৃত রোড় দিয়ে হাত বদলের মাধ্যমে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ইয়াবার চালান খালাস করছেন। আবার মাছ ধরার ট্রলার যোগে গভীর বঙ্গোপসাগর দিয়ে কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সমুদ্র এলাকায় কৌশলে ইয়াবার বড় বড় চালান পাচার করছেন। বঙ্গোপসাগর দিয়ে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে বড় বড় চালানসহ অনেক পাচারকারী হাতে নাতে আটক হয়েছেন। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন বাহিনী জল এবং স্থলে মাদকের বিরুদ্ধে যখন কঠোরতা অবলম্বন করছেন ঠিক তখনই পাল্টা প্রতিরোধে মাদক সংশ্লিষ্টরা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। তারা পুলিশ এবং বিজিবির কর্তাদের নানা ভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন। বড় কর্তাদের বদলীতে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন জোট বাঁধছেন বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্র জানায়। কৌশলী মাদক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আইন শৃংঙলা বাহিনী এবং মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় লোকজনকে টার্গেট করেছেন। পাতানো ফাঁদে ফেলাতে মাদক ব্যবসায়ীরা রীতিমত ছক আঁকছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১৫সনে মাদক এবং মানবপাচার বন্ধে প্রশাসন যখন হার্ড লাইনে থেকে যখন কাজ করেন, তার পরবর্তী সময়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। সে সময়ে মানবপাচার একেবারে বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। সেই থেকে ষড়যন্ত্রের বিস্তার ঘটিয়ে মাদক সংশ্লিষ্টরা আরো বেশী ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিস্তার ঘটাতে ছাত্রদের ব্যবহার করে কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। টেকনাফের অনেকে পড়া-লেখার নাম ভাঙ্গিয়ে এখন ভয়াবহ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা এটিও রোড় পরিবর্তনের একটি কারণ বলে মনে করছেন। তবে ইয়াবা অনুপ্রবেশ, মজুদ এবং পাচার শুন্যের কোটায় আনতে হলে মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ধ্বংসের খাদে পড়া ছাত্র, যুব সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের রক্ষায় প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গেল মাসে পুলিশ-বিজিবি-কোষ্টগার্ড স্থল এবং সাগরে অভিযান চালিয়ে ১৮লক্ষ ১৪হাজার ৮শ ৯৪পিচ ইয়াবাবড়ি উদ্ধার করে। এসময় ১১৫ মাদক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। দেখা গেছে, পুলিশ ১লক্ষ ২০হাজার ১শ ৮১পিচ ইয়াবাসহ ৩৯জন পাচারকারীকে আটক করেন। এর বিপরীতে মাদক মামলা হয়েছে ৩৫টি। বিজিবি ১৫লক্ষ দুই হাজার সাতশ ৭পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেন। ৭০টি মাদক মামলায় তারা ৬৯জনকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া কোষ্টগার্ড ১লক্ষ ৯২হাজার ৬পিচ ইয়াবাবড়ি উদ্ধার করেন। ১টি মাদক মামলায় কোষ্টগার্ড ৭জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ-বিজিব-কোষ্টগার্ডের ইয়াবা বিরোধী অভিযানে গেল মাসে ইয়াবা আটকের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে টেকনাফের অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবারো গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন খাঁন জানান, মাদককে শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করছে। প্রজন্ম বাঁচাতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, মাদকের ব্যাপারে কারো সাথে কোন কিছুতেই আপোষ করা হবেনা। টেকনাফের বদনাম ঘোচাতে মাদক ব্যবসা বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারে সংঘাত/টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ঢুকল আরও ৯ বিজিপি সদস্য

মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ...