প্রকাশিত: ২৭/০৪/২০১৯ ৫:৩৩ পিএম

বিবিসি : হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন, এক যুবকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের সময় তারা তার পেটের ভেতরে ১১ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছেন। একেকটি প্যাকেটে ৩০ থেকে ৩৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। কোন কোন প্যাকেটের ইয়াবা গলে গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শনিবার সকালে ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবকের ময়নাতদন্তের এসময় এসব ইয়াবা পাওয়া যায়।

ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় জুলহাস নামের এই যুবকের মৃতদেহ তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল ময়নাতদন্তের জন্যে। পরে আজ সকালে যখন ময়নাতদন্ত করা হয় তখন তাদের পেটের ভেতরে ‘এসব পোটলা’ পাওয়া গেছে।

“পুলিশ আমাদেরকে জানিয়েছে মুগদার একটি হাসপাতালে রক্তবমি হয়ে নাকি ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকার কারণে পুলিশ ময়নাতদন্তদের জন্যে তার মৃতদেহটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছিল,” বলেন তিনি।

সাধারণত কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে কিম্বা মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুলিশ পোস্টমর্টেমের জন্যে তার মৃতদেহ ফরেনসিক ডাক্তারদের কাছে পাঠিয়ে থাকে।

এই যুবকের কিভাবে মৃত্যু হয়েছে জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ইয়াবার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

“ইয়াবার যেসব পোটলা সে গিলে খেয়েছিল সেগুলোর একটা দুটো বিস্ফোরিত হয়ে সে মারা গেছে বলে আমরা ধারণা করছি,” বলেন তিনি।

এতোগুলো ট্যাবলেটের প্যাকেট গিলে খাওয়া সম্ভব কীনা জানতে চাইলেন তিনি বলেন, ‘সম্ভব বলেই তো ট্যাবলেটগুলো তার পেটে পাওয়া গেছে।’

ওই যুবকের পেটের ভেতরে ইয়াবা পাওয়ার কথা মতিঝিল থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে ।

মতিঝিল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জুলহাস মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল বলে তারা তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারছেন।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, শুক্রবার ভোরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর সে মারা গেছে।

তিনি বলেন, “শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কমলাপুরে বিশ্বাস টাওয়ারের সামনে সে রাস্তার উপরে বমি করছিল। স্থানীয় লোকজন তখন পুলিশকে জানায় যে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। পুলিশ গিয়ে দেখেন যে লোকজন তার মাথায় পানি ঢালছে। তখন পুলিশ তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এবং দুপুর ১১টার দিকে সে মারা যায়।”

মি. ফারুক বলেন, নেত্রকোনা থেকে জুলহাসের এক ভাই এসেছিল তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাদের সন্দেহ হওয়ার কারণে মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

“হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে তার পেটের ভেতরে প্লাস্টিকের যেসব প্যাকেট ছিল তার মধ্যেই ছ’টি প্যাকেট গলে গেছে,” বলেন তিনি।

পুলিশ বলছে, ওই যুবকের নামে নেত্রকোনা থানায় মাদকের দুটো মামলা রয়েছে।

তারা সন্দেহ করছেন, পাচারের জন্যেই তিনি হয়তো এসব ইয়াবা তার পেটে করে বহন করছিলেন।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ গ্রেফতার

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় নিরাপত্তাজনিত অবহেলায় পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায় (৩১) নিহত হওয়ার ঘটনায় ...

উখিয়া-টেকনাফে অপহরণ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ঠেকাতে সেনাবাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে ...

কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক কারবারীদের তালিকা করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি নির্মোহ তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ...

৫৮ অনুমোদন, চলছে ২০০+ সিএনজি: ক্যাম্পে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলের জন্য শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অনুমোদন রয়েছে মাত্র ...

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী-মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক ব্যক্তির পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ...

মহেশখালীর এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে জাতীয় গ্রিডে ...
Single Page Footer