ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৩/০৪/২০২৩ ৬:৪০ পিএম

সূর্যের সঙ্গে তার মুখোমুখি থাকা চাই। তাই নামটা সূর্যমুখী। দিগন্তজোড়া মাঠে কেবল মনমাতানো হলুদ। এমন দৃশ্য কল্পনা করতেও ভালো লাগে। তবে কল্পনা নয়, বাস্তবে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্যের দেখা মিলবে খুলনার ডুমুরিয়ায়।

ডুমুরিয়ার লবণাক্ত পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সাফল্য এসেছে। স্বল্প খরচে ভালো ফলন আসায় আশায় বুক বাঁধছেন চাষিরা। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে হচ্ছে সূর্যমুখীর চাষ। সবুজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যমুখীর প্রশস্ত হাসি যেন কৃষকের আশারই প্রতিফলন। এ মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভের স্বপ্ন বুনছেন তারা।

এদিকে, সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য দেখতে এসব এলাকায় এখন তরুণদের ভিড়। উদ্দেশ্য, হলুদ সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমবন্দি করে রাখা। এ কাজে অবশ্য পিছিয়ে নেই স্থানীয়রাও।

ডুমুরিয়ার লবণাক্ত জমিগুলো বেশিরভাগ ফসলের জন্যই অনুপযোগী। সেখানে এবার করা হয়েছে হাইব্রিড জাতের সূর্যমুখীর চাষ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করে সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান চাষিরা।
চাষে সাফল্য আসায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কালিকাপুর গ্রামের চাষি সাইফুল ইসলাম মোড়ল কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেন। অল্প সময় ও কম পরিশ্রমে ভালো ফলন এসেছে। এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সূর্যমুখী থেকে লাভবান হওয়া সম্ভব।

সাইফুল জানান, প্রতি বছর ৩৩ শতক জমিতে এ ফুল চাষ করেন। কৃষি অফিস বীজের পাশাপাশি সার কীটনাশকও সরবারহ করে।

আরেক চাষি মোহাম্মদ জানান, তিন বিঘা জমিতে তিনি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। এর আগে লবণাক্ততার কারণে ৫-৬ বছর ধরে এ জমি পড়ে থাকত। আমন ধান ছাড়া আর কোনো ফসল এখানে হতো না। একসময় স্থানীয় কৃষি অফিস সূর্যমুখী চাষের পরামর্শ দেয়। তারাই সার ও বীজ সরবরাহ করেছে। এছাড়া সবসময় সহযোগিতা করে আসছে। এ কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। জমিতে ফলন ভালো দেখে এখন আশপাশের অনেক কৃষকই সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ মৌসুমে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৩৩৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি চাষ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমন মৌসুমের পর জমিগুলো পড়ে থাকত। সেসব জমিতে প্রণোদনার সহায়তায় সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। ফসলও ভালো হয়েছে। ভালো ফলন দেখে কৃষকদের মধ্যে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এতে অনাবাদী জমির পরিমাণ কমবে এবং পূরণ হবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা।

পাঠকের মতামত

বাবুল আক্তারের জামিন!

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানার দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন ...