
মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান।
খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংকট। এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মানবকল্যাণে হয় এবং তা দায়িত্বশীল ও মানবকেন্দ্রিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেজন্য এআরএফের আওতায় একটি কার্যকর প্রযুক্তি শাসন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সামুদ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এই ধরনের বিরোধ সংলাপ ও আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাধান করা হলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
৩৩তম এআরএফ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শান্তি, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

পাঠকের মতামত