প্রকাশিত: ০৮/০৯/২০১৭ ১০:৫৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:৫২ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক;;
গত ২৫ আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকেই প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীর পাহাড়ায় তারা সেখানেই আটকা পড়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দুই থেকে ১২ দিনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত রোহিঙ্গারা প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রচণ্ড সংকটের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় চরম হাহাকার করছেন তারা।

জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। রয়েছে চরম দুর্ভোগে। খাদ্য ও পানীয় সংকটে ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত মানুষের কান্নাকাটি, বিলাপ, কাড়াকাড়িতে ভারি হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের বৃহত্তম দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মানবিক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিতিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিককে আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। আমরা শুধু মাত্র মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতি খুবই পরিষ্কার যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালাতে কাউকে আমাদের ভুখন্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মানবিক বিবেচনায় মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। এসব ঘটনা কারা করছে, তা নিয়েও তাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মানুষ অসহায় হয়ে পড়লে তাদের আশ্রয় না দিয়ে উপায় থাকে না। এটা বাস্তবতা। তারপরও এটা সে দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। তবু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে দেশের কুটনীতিককে ডেকে কথা বলা হয়েছে। আমাদের বর্ডার গার্ডকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা সতর্ক অবস্থায় আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অপর দিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অবনতি হতে থাকবে। এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হচ্ছে। ভূমিচ্যুত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রধানত বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছে। এ ছাড়া আরও কিছু দেশেও রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হয়ে জীবনযাপন করছে।’ রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে বলে খালেদা জিয়া আশা প্রকাশ করেন।

পাঠকের মতামত

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনহাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে না, ঢাকাকে জানাল ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ...

রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার ...

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে এআই

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। মিয়ানমার সীমান্ত সিলগালা করতে ...
Single Page Footer