প্রকাশিত: ০২/০১/২০১৮ ৮:২৫ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:৩৬ এএম

নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের গণহত্যার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ ছাড়িয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দু’দেশ ইতোমধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। কিন্তু ফিরে যেতে নানান শর্ত দিচ্ছেন আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা। শঙ্কা দেখা দিয়েছে গোটা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নিয়েও। আগামী ২২ জানুয়ারি সাড়ে চারশ’ রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এরা মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের।কিন্তু তারাও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মতো তাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ নানান শর্ত দিচ্ছেন। তারা বলছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের যে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে, ঠিক তাদেরকেও সেই পরিচয়পত্রই দিতে হবে। অন্যথায় তারা ফিরে যাবে না।রীমা রানি দাশ বলেন, ‘আমরা এসেছি সাড়ে চার মাস পার হতে চলেছে। এতোদিন পর হলেও আমরা নিজ দেশে ফেরার খবরে খুশি। তবে আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে মংডুতে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে আমাদের জমিসহ সব কিছুই রয়ে গেছে। আমরা আবারও এগুলো ফেরত পেলে চলে যাব।’রোহিঙ্গা যুবক রমেন পাল বলেন, ‘আমাদের উপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, এসবের সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা ফিরে গেলে তারা আবারও আমাদের মা-বোনের উপর নির্যাতন করার সাহস পাবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জমি-জমা যাবতীয় আমরা যা হারিয়েছি, সেসব মিয়ানমার সরকার কাছ থেকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।’বৃদ্ধ রোহিঙ্গা রক্ষিত পাল বলেন, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর সরকার যেভাবে আশ্রয় এবং নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে, সেভাবে মিয়ানমার সরকারও যদি রাখে তাহলে আমরা ফিরে যেতে রাজি। আর আমাদেরকেও মিয়ানমারের নাগরিকদের মতো সেই লাল কার্ড দিতে হবে।’বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সব কিছু ফিরিয়ে দিতে হবে। আর আমাদের উপর কোনো ধরনের নির্যাতন হবে না তা লিখিতভাবে বলতে হবে। তাহলে আমরা ফিরে যাব।’তিনি বলেন, ‘অন্যথায়একবার যাব আবার নির্যাতনের মুখে চলে আসতে হবে- সেটা আমরা আর চাই না। আমরা ফিরে গেলে সবকিছু নিয়ে যাব।’রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯২ সালেও এরকম একটি ফাঁদ পেতেছিল মিয়ানমার। সেইবারও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার নামে প্রতারণা করেছে তারা। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সরকারকে।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের নামে কোনো ধরনের পাঁয়তারা করতে যাতে না পারে, সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমঝোতার ব্যবস্থা করা উচিত সরকারের। তা না হলে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের মতো আবার প্রতারণার আশ্রয় নেবে।’প্রথম ধাপে চারশ’ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া প্রসঙ্গে মাহমুদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করেছে হাজার হাজার। এতেও ছয় মাসের বেশি সময় লেগেছে। চারশ’-পাঁচশ’ করে ফেরত নেয়া লোক দেখানো বলে মনে করছি আমরা। সেই ১৯৯২ সালের মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।’সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সরকার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ করেছে। সব রোহিঙ্গাকে ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানো হবে।রোহিঙ্গাদের আশঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় বাংলাদেশ। যেহেতু তারা কিছু শর্তের কথা বলছে, সেগুলোকে নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer