ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৩/০৭/২০২৬ ১২:১১ পিএম

২০১৭ থেকে যে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এখনও। গত দেড় বছরেও প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছেন আরও প্রায় দেড় লাখ মিয়ানমারের নাগরিক।

বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। প্রথম কয়েক বছর এতে বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলেও দিনকে দিন তা কমছে। এ বছর ৭১০ মিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি, তা গতবারের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলছিলেন, ২০১৭ তে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনো রোহিঙ্গাদের অনেকে একই অবস্থার শিকার হচ্ছে। আবার সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে যারা, তারাও ভালো নেই। দ্রুত দেশে ফেরারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের সামনে কোনো আশার আলো নেই; তাই এ সংকটের নতুন সমাধান খুঁজতে হবে।

২০১৭ তে রোহিঙ্গা ঢলের পর গাজা, সুদান ও ইউক্রেন— তিনটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দেও অগ্রাধিকার পেয়েছে সে সব সংকট। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখার আশা দেখছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, যেহেতু ফান্ড কাট হয়েছে, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবকিছুই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেয়েছে। সেখান থেকে হয়তো এই রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে আরো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফোকাস করার জন্য উনি কাজ করবেন।

এদিকে, গত বছর যে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল, বাস্তবে মিলেছিল তার অর্ধেক। একদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়তি জন্মহার, নতুন ঢল অব্যাহত থাকা আর বিপরীতে টাকা কমে যাওয়ায় এখন তাদের তিনবেলা খাওয়ানোই দুষ্কর। ৩৩ শতাংশ রোহিঙ্গার জন্য দিনে ১২ ডলার, ৫০ ভাগের জন্য ১০ আর ১৭ ভাগের জন্য ৭ ডলার খাওয়ার খরচ এখন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যেটি সর্বোচ্চ ১২ ডলার ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে, তাতে একজনের একবেলার দাম পড়ে ১৬ টাকা। এই টাকা দিয়ে তো একটা মিল হয় না। মানুষগুলো ক্ষুধার্ত থাকে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে আমাদের একটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস তৈরি হচ্ছে এবং এর সাথে আমাদের নিরাপত্তা জড়িয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় চীনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত কীভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর কাজ অন্তত শুরু করা যায়, সেটিই সরকারের অগ্রাধিকার।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...