প্রকাশিত: ০৭/০১/২০১৮ ৮:২৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:২৩ এএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আইডিপি ক্যাম্প (অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবির) বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। তারা রোহিঙ্গাদের কাজের সুযোগ দেবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভাপতি এবং মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যে আইডিপি শিবিরগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর বিদ্যমান বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া এবং নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার সুপারিশ করেছিল কফি আনান কমিশন।

এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডাব্লিউজি) প্রথম বৈঠক হবে আগামী ১৫ জানুয়ারি নেপিডোতে। সেই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সই হওয়ার কথা রয়েছে। কবে কোন সীমান্ত দিয়ে কতজন করে যাবে এবং মিয়ানমার তাদের গ্রহণ করার কী ব্যবস্থা নেবে সেসব বিষয় বিস্তারিত থাকবে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে। মিয়ানমারের পাঠানো ফরম ব্যবহার করে প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ এ সপ্তাহেই শুরু হওয়ার কথা। আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

রাখাইন রাজ্য কর্তৃপক্ষ গত এপ্রিল মাসেই কামান মুসলমান, রাখাইন জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের তিনটি শিবির বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এবার ওই তিনটি শিবিরসহ অন্য শিবিরগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মিয়ানমারের মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে বলেন, ওই শিবিরগুলো ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) মিয়ানমারে ক্ষমতায় আসার পরই ওই শিবিরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কারণ শিবিরের বাসিন্দাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। আনান কমিশনও শিবিরগুলো বন্ধ করতে বলেছে।

মিয়ানমারের মন্ত্রী বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে উত্তর রাখাইন রাজ্যে হামলার ঘটনায় শিবিরগুলো বন্ধ করার সরকারি পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়। সরকার আবার সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আইডিপি শিবিরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, শিবিরের বাসিন্দাদের জন্য এমন জায়গা খোঁজা হচ্ছে যেখানে তাদের কাজের সুযোগ থাকবে।

উইন মিয়াত আয়ে বলেন, ‘আমরা মত্স্য খাত ও শিল্প জোনগুলোতে চাকরি সৃষ্টি করব। তাদের জন্য অবাধে চলাফেরার সুযোগ করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাছে জাতীয় পরিচয় যাচাইকরণ কার্ড থাকলে তারা মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।’

রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ রাখাইন ও মুসলমান রোহিঙ্গাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা না থাকায় আইডিপি শিবিরগুলো বন্ধ করা নিয়ে সমস্যা হবে কি না—রেডিও ফ্রি এশিয়ার এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের মন্ত্রী বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা থাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন একটি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি তখন আমাদের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে। স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হবে। উন্নয়ন হলে আরো বেশি স্থিতিশীলতা আসবে।’ তিনি বলেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য শিক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। লোকজন শিক্ষিত না হলে তারা উগ্রবাদী হয়ে উঠতে পারে এবং অন্যরা সহজেই তাদের ব্যবহার করতে পারে।

রোহিঙ্গাদের জন্য তিন দেশের যৌথ মিশন : কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া যৌথ মিশন পরিচালনা করতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার দ্য স্টার পত্রিকার অনলাইনে গতকাল শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামউদ্দিন হুসেইন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

হিশামউদ্দিন হুসেইন বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ফিল্ড হাসপাতাল আছে। তবে সেটি মালয়েশিয়ার ফিল্ড হাসপাতালের মতো বড় নয়। সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের জন্য ওষুধসামগ্রী দেবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ মাসেই কক্সবাজার সফর করার কথা রয়েছে। তখন তিন দেশ যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেবে।সুত্র: কালের কন্ঠ

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer