
মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া ::
টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে মাছ আহরনের নামে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জেলে পরিচয়ে পাচারকারী চক্র বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে অসংখ্য বার বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান ক্যাম্পে মজুদ করেছে। সুযোগ বুঝে এসব ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। ফলে ইয়াবায় সয়লাব হয়ে গেছে সারাদেশ। এসব জেলে নামধারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের চলচাতুরী বুঝতে পেরে সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র জোয়ানেরা নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। এমন কি নাফ নদীর আশে পাশে যাকে পায় তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে উখিয়া ও তৎসংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ী দূর্গম এলাকা দিয়ে ইয়াবার চালান সরবরাহ এনে ডেইলপাড়া ও করইবনিয়া তিনজন শীর্ষ স্থানীয় ইয়াবা কারবারির নিয়ন্ত্রণে মজুদ করছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গোপন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, করইবনিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি যাকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা দিন রাত পরিশ্রম করছে তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে উক্ত সিন্ডিকেট। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ইয়াবা পাচারকারীরা অস্ত্রের ভয় প্রদর্শন করে এক এক সময় এক এক বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। তাদের রয়েছে অস্ত্রধারী ৭/৮ জন সন্ত্রাসী। তাদের মারফতে ইয়াবার চালান ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি চালান অর্থাৎ ২ কার্ড ইয়াবা ক্যাম্পে পৌছে দেওয়ার বিপরীতে পাচ্ছে নগদ ১০ হাজার টাকা। টাকার লোভে ডেইলপাড়ার অনেক সংবাদকর্মী নামধারী প্রতারক চক্র ইয়াবার বাহন হিসেবে কাজ করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রতি রাতে বিপুল সংখ্যক ইয়াবার চালান সীমান্তের খাল পার হয়ে করইবনিয়া ও ডেইলপাড়ায় ঢুকছে বলে খালকাঁচা পাড়ার বসতি বেশ কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা জানিয়েছেন। বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের দূর্গম এলাকায় কিছু সংখ্যক বার্মার বিদ্রোহী গ্রুপ আশ্রয় নিয়েছে। (বাঘিন) নামের এ বিদ্রোহী গ্রুফের সহায়তায় তাদের নিয়ন্ত্রণে ইয়াবার চালান মজুদ রাখা হচ্ছে। পরে করইবনিয়া ও ডেইলপাড়ার গডফাদার যার নাম সকলের মুখে মুখে সে দুর্দন্ড ইয়াবা গডফাদারের সাঙ্গপাঙ্গরা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে রেজু আমতলী ফাত্রাঝিরি, গর্জবনিয়া সীমান্তের ৩৯,৪০ ও ৪১ নং পিলারের পাশর্^ দিয়ে করইবনিয়া এসে মজুদ হয়। এসব ইয়াবা আলিকান নামের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ স্কট দিয়ে এপারে পৌঁছে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে জানা গেছে, সীমান্ত পথ দিয়ে মাদক আসা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দ্বিপাক্ষীক বৈঠক হয়েছে। এসময় ভারতের পক্ষ থেকে ৩৮০ জন মাদক কারবারির তালিকা বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে পুলিশের ডিআইজি বেনজির আহমদ বলেছেন, মাদকের গডফাদারদের সনাক্ত করা কঠিন। মাদক বিরোধী অভিযানে বেশির ভাগ ধরা পড়ে বহনকারীরা। এ ফাঁকে মাদক পাচারকারীরা বার বার ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তবে পুলিশও তাদের কৌশল উদঘাটন করেছে। শীঘ্রই গডফাদারদের ধরা হবে। এব্যাপারে র্যাবের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, গডফাদার হোক আর যে হোক মাদক কারবারিরা র্যাবের হাত থেকে রেহাই পাবে না। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক মো: মেহেদী হোসাইন কবির বলেন, স্থানীয় শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের ধরতে তার বাহিনী বন জঙ্গলে কাজ করছে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে ইয়াবা ঢুকতে না পারে সেজন্য সীমান্তরক্ষী বিজিবি তৎপর রয়েছে।

পাঠকের মতামত