প্রকাশিত: ২১/১০/২০২০ ১০:২৭ এএম

জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও অনেক রাষ্ট্র এর কোনোটিই মানছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ও কানাডিয়ান দূতাবাস এবং কমনওয়েলথ আয়োজিত রোহিঙ্গা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া এবং কোনও কিছুকে তোয়াক্কা না করার বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমার গণহত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ করার পরে কোনও ধরনের দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করেনি। একইসঙ্গে ‍ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে মিয়ানমারকে তোয়াজ করা হচ্ছে।’

রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সবচেয়ে প্রথমে মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়াই দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো রোহিঙ্গা ইস্যুটি চাপা পড়ে ছিল এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি বিস্ফোরিত হয়। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেও সমস্যাটি এত বিকট আকার ধারণ করে যে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানবিক ও মানবাধিকার বিপর্যয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, গত তিন বছর ধরে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা টেনে চলেছে বাংলাদেশ এবং এই বোঝা আর টানতে ইচ্ছুক নয় সরকার। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিতে চাই, রোহিঙ্গাদের এই অন্যায় ও অন্যায্য বোঝা টানার সক্ষমতা এবং ইচ্ছা কোনোটাই বাংলাদেশের নেই। তিনি বলেন, মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্যমূলক আচরণ ও গণহত্যা মেনে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। চীন, ভারত, জাপান, আসিয়ানকে উদ্দেশ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আরও যোগাযোগ করুন এই সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য, যাতে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে যাতে করে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করতে পারে। টেকসই প্রত্যাবাসনের চাবি মিয়ানমারের হাতে আছে এবং তারাই এই অচলাবস্থা ভাঙতে পারে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মোনা তাসনিম, কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডসহ অনেকে অংশ নেন।

পাঠকের মতামত

‘বিএনপির অতীতের সাফল্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন উদ্যোগের অনুপ্রেরণা’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে ...

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ...