প্রকাশিত: ০৩/০২/২০১৮ ৯:০৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৭:০৮ এএম

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ::
টেকনাফের হোয়াইক্যং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ শিকাররত বাংলাদেশী জেলেদের উপর গুলি বর্ষণ করেছে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। এতে ১ জন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বিজিপি। বিজিপির গুলিতে আহত হয়েছেন জেলে নুরুল ইসলাম (৩৫)। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়ার ফকির মোহাম্মদের ছেলে। অপহৃতরা হলেন একই এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে আজিজুল্লাহ (৩৮), মৃত আব্দুল শুক্কুরের ছেলে ইয়ার মোহাম্মদ (৩৪), মৃত নুরুল আলমের ছেলে শাহ আলম (৪০), আব্বাসের ছেলে মো. রফিক (৩৬) ও আব্দুল জলিলের ছেলে পেটান আলী (৩৯)। ফিরিয়ে আনার পর বিজিবি রোহিঙ্গা পারাপারের জন্য বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে এনে এদের সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহিদ হোসেন সিদ্দিক এদের প্রত্যেককে ৩ করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।
এক জেলে গুলিবিদ্ধ ও পাঁচ জেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে করে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল গাফ্ফার বলেন ‘শনিবার ৩ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া সংলগ্ন নাফনদীর পয়েন্ট দিয়ে একদল জেলে মাছ শিকার করছিলেন। এসময় মিয়ানমারের শীলখালী ঘাঁটির বিজিপি’র একটি বিশেষ টহল দল স্পীড বোট নিয়ে এসে বাংলাদেশি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ জেলেকে ফেলে নৌকা ও জালসহ ৫ জনকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। তখন গুলিবিদ্ধ জেলের অপর সহযোগীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাঞ্জরপাড়া বাজারে নিয়ে আসে। তাকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে অপহৃত পাঁচ জেলে পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে’।
এব্যাপারে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, নাফনদীতে মাছ শিকার বন্ধ করা হলেও জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করায় এঘটনার সূত্রপাত। তবে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা হয়েছে। বিকালে অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনা হয়’।
হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওঃ অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন ‘আমার জানা মতে আহত ও অপহৃতরা প্রকৃতপক্ষেই অসহায় জেলে। এরা পেঠের দায়ে সরকারী নিষেধ সত্বেও নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়েছিল’।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন ‘রোহিঙ্গা পারাপারের জন্য বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে বিজিবি সন্ধ্যায় ৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে ধরে আনে। এদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে’।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer