
সৈয়দুল কাদের :
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই থার্টিফাস্ট নাইট। ‘থার্টি ফাস্ট নাইটকে’ কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন রাজধানী সৈকতের কক্সবাজারেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেলে অগ্রীম বুকিং এর ধুম পড়েছে। ছুটে আসছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। পর্যটক বরণে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে পিছিয়ে নেই পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’কে ঘিরে ইতোমধ্যে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটক সমাগম হয়েছে। বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণের এই উচ্ছ্বাসে সপ্তাহজুড়ে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন অব্যাহত রয়েছে। তাদের মতে, ডিসেম্বরের শেষ পনের দিনে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। পর্যটক বরণে হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে রেখেছে। ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উপলক্ষ্যে সব বড় হোটেলে নানা ধরণের অনুষ্ঠানেরও আয়োজন চলছে। একই ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত।
সূত্রমতে, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন ব্যাপক হারে বেড়েছে। এসব পর্যটকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মনের আনন্দ উচ্ছ্বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকদের বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কক্সবাজার বিস্তীর্ণ সমূদ্র সৈকত, দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ইনানী, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মিয়ানমার সংলগ্ন নাফনদী হয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সম্প্রতি বিনোদনে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার শহরে ফিসওর্য়াল্ড একুরিয়াম। এছাড়াও এখন সৈকত জোনে চলছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা।
সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে অগণিত পর্যটক। আবাল বৃদ্ধ-বণিতার ভীড়ে সৈকতে হাঁটাও যেন দুষ্কর। বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ সৈকতে হাঁটছেন, কেউবা চেয়ারে বসে গল্পের ফাঁকে সাগরের লবণাক্ত হাওয়া উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ শীতের মাঝেও সাগরে গোসলে মত্ত।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতিরিক্ত পর্যটক আগমনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়তি দাম ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অধিকাংশ হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। এতে করে প্রতিনিয়ত ঠকছে পর্যটকেরা। বেশ কয়েকজন পর্যটক জানিয়েছেন, যে রুম স্বাভাবিকভাবে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয় সেই রুমে এখন ভাড়া আদায় করছে দৈনিক ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা। প্রশাসনের তদারকির অভাবে পর্যটকেরা আর্থিকভাবে চরম লোকসানের শিকার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়া আছে। পূর্বের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছে মোবাইল কোর্টের।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ বিএম মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটসমূহে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।

পাঠকের মতামত