ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৩/১২/২০২৩ ৯:২৬ এএম

সাধারণ পণ্যের মতো এখন ইয়াবার কারবারও চলছে বাকিতে। একটি চালান পৌঁছে দেওয়ার পর সেগুলো বিক্রি করে পাইকারি বিক্রেতাকে টাকা দিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে নিচ্ছেন নতুন চালান। তেমনই একটি চালান বাবদ ঠাকুরগাঁওয়ের এক মাদক কারবারির কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকা পেতেন রূপন চাকমা। সেই টাকা আদায়ের পাশাপাশি নতুন চালান পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল তার তিন সদস্যের দল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার আগেই ধরা পড়েছেন তারা। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, যা ক্রেতার কাছে ১০ লাখ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হতো।

গ্রেপ্তার অপর দু’জন হলেন– রূপায়ণ তঞ্চংগ্যা ওরফে বাবুল ও গান্দিমালা তঞ্চংগ্যা। সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সরবরাহকারী এই চক্রের প্রধান রূপন চাকমা। এর আগে গত ১১ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মাসখানেক আগে জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও জড়িয়ে পড়েন অপরাধে।

ডিএনসির মিরপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঞা সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ায়। তারা সেখান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেন। তবে ইয়াবা মূলত কক্সবাজার অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসে বলে এই রুটে কড়া নজরদারি থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখে ফাঁকি দিতে তারা ইয়াবার চালান নিয়ে প্রথমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চলে যান। সেখান থেকে শান্তি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। এই বাসটি ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত যায়। দলনেতা রূপনের পরিকল্পনা ছিল, সেখানে পৌঁছে স্থানীয় মাদক কারবারির কাছে চালান পৌঁছে দেবেন। সেই সঙ্গে আগের চালানের বকেয়া টাকা আদায় করবেন। তার সঙ্গে থাকা দু’জন মূলত অর্থের বিনিময়ে ক্যারিয়ার (মাদক বহনকারী) হিসেবে কাজ করেন।

ডিএনসির এই কর্মকর্তা জানান, প্রতি পিস ইয়াবা পৌঁছে দিলে গড়ে ১০০ টাকা লাভ থাকে রূপনের। সেই হিসাবে এবারের চালান পৌঁছে দিলে তার লাভ হতো ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ থেকে কিছু অংশ তিনি দিতেন দুই বাহককে। এবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল ডিএনসির একটি দল। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সায়েদাবাদে মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের টোল প্লাজায় শান্তি পরিবহনের বাসটি থামানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ওই তিনজনকে আটক করে ডিএনসি। তাদের মধ্যে গান্দিমালার থামির (পাহাড়িদের ব্যবহৃত পোশাক) পকেটে লুকানো ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা। বাকি ইয়াবা অন্য দু’জনের কাছে পাওয়া গেছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক অভিযানগুলোয় প্রায়ই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা ইয়াবাসহ ধরা পড়ছেন। তাদের বেশির ভাগই অভাবী পরিবারের সদস্য। টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের সহজেই রাজি করিয়ে ফেলে মাদক কারবারিরা। তাদের মূলত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো দল ঢাকার আশপাশের এলাকায় উত্তরাঞ্চলের মাদক কারবারিদের
কাছে চালান হস্তান্তর করে। আবার কোনো দল একদম উত্তরের নির্দিষ্ট জেলায় গিয়ে মাদক পৌঁছে দেয়। এবারের অভিযানে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। সুত্র: সমকাল

পাঠকের মতামত

চট্টগ্রাম মেডিকেলে চান্স পেয়েছেন সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান কন্যা তাসপিয়া

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আবছারের কনিষ্ঠতম কন্যা ও এনজিও সংস্থা সেভ’র হেড ...

সীমান্তে উদ্ধারকৃত দু’টি মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত দু’টি মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করেছে সেনাবাহিনীর বোমা ...