প্রকাশিত: ১৯/০১/২০১৮ ৮:২৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৭:৫২ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তার বিরুদ্ধে একদল রোহিঙ্গা শুক্রবার কক্সবাজারের একটি শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভ করেছে।

কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের একটি ব্লকে এই বিক্ষোভে একশোর মতো শরণার্থী অংশ নেন।

তারা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার দাবি জানান।

তবে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের এ ধরনের বিক্ষোভের কোন তথ্য তাদের জানা নেই।

এই বিক্ষোভের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আনুমানিক শ খানেক লোক সেখানে জড়ো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সামনে ছিল ইংরেজী লেখা একটি ব্যানার। এতে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়।

রাখাইনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানানো হয় এতে।

এছাড়া প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়ারও দাবি জানানো হয়।

এই বিক্ষোভের সংগঠকদের একজন নিজেকে মহিবুল্লাহ বলে পরিচয় দেন। তিনি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সকাল আটটায় কুতুপালং শিবিরের ই ব্লকে এই বিক্ষোভ হয়েছে।

তিনি বলেন, ” আমাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সময় এখনো আসেনি। এজন্যে আমরা আজ সকাল আটটায় এই বিক্ষোভ করেছি। রাখাইনে আমাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। রোহিঙ্গা হিসেবে আমাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ওপর যারা অবিচার করেছে তাদের বিচার করতে হবে। তাহলে আমরা ফেরত যেতে পারি। ”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থায় তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে প্রস্তুত নন।

তবে কুতুপালংয়ে স্থানীয় সাংবাদিক এবং রোহিঙ্গাদের অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায় তারা এ বিক্ষোভ সম্পর্কে কিছুই জানেনে না।

এমনকি কুতুপালং এবং টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারা নেতৃস্থানীয় হিসেবে পরিচিতি তাদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেল এ ধরনের বিক্ষোভ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।

এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লী আগামীকাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করবেন। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কোন ধরনের বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করছেন।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান বলছেন এ ধরনের কোন বিক্ষোভের কথা তিনি শুনেননি।

মিয়ানমারের সঙ্গে করা এক চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ সরকার যখন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন রোহিঙ্গাদের এ ধরণের বিক্ষোভ সরকারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। তিনি বলছেন রোহিঙ্গাদের এসব বিক্ষোভ জোরালো কিছু নয়। তবে সেটি যে জোরালো হবে না এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায়না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের এ বিক্ষোভের সাথে জড়িত মহিবুল্লাহ বলছেন তাদের কর্মসূচী ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত হলেও সেটির ভিডিও মানবাধিকার কর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের হাতে বেশ দ্রুত পৌঁছেছে।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer