প্রকাশিত: ০৪/০৫/২০১৭ ৭:৫৫ এএম

আহমদ গিয়াস ::
আগামী ৬ মে শনিবার দেশের প্রধান অবকাশ যাপন কেন্দ্র কক্সবাজারে স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঝুঁকি প্রতিরোধে নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজার শহরসহ প্রধানমন্ত্রীর আগমন-নির্গমন পথকে নিñিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অনুষ্ঠিত প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে গড়ে তোলা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাইকিং করে প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণ পথের দু’পাশের অবৈধ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে আগামী শনিবার পর্যন্ত এলাকায় অপরিচিত কাউকে অবস্থান করতে দেখলে প্রশাসনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে নির্মিত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন করতে আগামী শনিবার কক্সবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিমানযোগে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেই সড়ক পথে সরাসরি চলে যাবেন সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণে। তিনি প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করে পৌঁছাবেন মেরিন ড্রাইভের মধ্যবর্তী স্থানে উখিয়ার মোহাম্মদ শফির বিলে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করবেন সড়কটির। এ সড়কটি উম্মোচনের ফলে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবিষয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন- সড়কটি পর্যটন বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়কের উপরও যানবাহনের চাপ কমবে। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বিকাশ ও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে আরো বহু প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় ২৬ বছর আগে ১৯৯১-৯২ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পের সূচনা করে তৎকালীন সরকার। এরমধ্যে একাংশ নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগকে এবং কক্সবাজার শহরের একাংশ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সড়ক ও জনপথ বিভাগকে। পরবর্তীতে সামুদ্রিক ভাঙনের কবলে পড়ায় এবং পর্যাপ্ত অর্থসংস্থানের অভাবে নির্মাণ কাজে বিলম্ব ঘটে। এরমধ্যে প্রথম ১৫ বছরে সড়কের প্রথম পর্যায়ের মাত্র ২৪ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও অর্থ বরাদ্দ বাড়ালে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাকী সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়। বিএনপি সরকারের আমলে শুরু করা এবং আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে উন্নয়ন দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনা, উন্নয়নে দুটি সরকারের একটি ইতিবাচক মেলবন্ধন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা দেশের স্বার্থে আগের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এগিয়ে নেবেন।

পাঠকের মতামত

রামুর ফতেখাঁরকুলে উপ-নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে প্রচারনায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী

রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি ৩ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া ...

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ দুদকের মামলা

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ স্পেশাল ...