প্রকাশিত: ৩১/০৫/২০১৭ ৩:২৭ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:২০ পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের উপকূলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হেনেছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার বিবেচনায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলার দায়িত্ব যে মন্ত্রণালয়ের হাতে তা ছিল অভিভাবকহীন। কারণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব দু’জনই রয়েছেন বিদেশ সফরে।

শুধু তাই নয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকও (ডিজি) রয়েছেন বিদেশে।

‘গ্লোবাল প্লাটফর্ম ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২৩ মে মেক্সিকোর কানকুনে গেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সচিব শাহ কামাল। মায়া ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদও রয়েছেন এ প্রতিনিধি দলে। বুধবার (৩১ মে) তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

২০১১ সালের ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি ও অনুসরণীয় আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ওই পরিপত্রে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিবগণের একসঙ্গে বিদেশভ্রমণ সাধারণভাবে পরিহার করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-এর বার্ষিক সভা, দাতাগোষ্ঠীর সভা) একত্রে বিদেশভ্রমণ অপরিহার্য হলে অত্যন্ত সীমিত ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় করা যেতে পারে।’

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার-চট্রগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে। এজন্য সোমবার রাতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়। যদিও মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মহাবিপদ সংকেত প্রত্যাহার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায় নি।

দেশে বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিপত্রে এ ধরণের ভ্রমণ পরিহার করার কথা বলা হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা রয়েছে মন্ত্রীর নিজের দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ও সচিবের একসঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঠিকই বলেছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এ ধরণের একটি অনুশাসন আছে। এই যে একটা দুর্যোগ… আরও বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। এ সময়ে মন্ত্রী মহোদয় গেলে, সচিবের থাকা উচিত। খুব জরুরি কোনো বিষয় ছাড়া দুজনের একসঙ্গে যাওয়া উচিত নয়। চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় থাকলে মন্ত্রী-সচিবের একসঙ্গে যেতে পারেন।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের আরও বলেন, ‘আমি সঠিকভাবে জানি না কোনো বাধ্যবাধকতা (ওই সম্মেলনে যাওয়ার বিষয়ে) আছে কিনা, দু’জনের যাওয়াটা জরুরি ছিল কিনা? তা না হলে মনে হয় একজনেরই যাওয়া উচিত। দুজন একসঙ্গে গেলে সমস্যা হতে পারে।’

অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা তো সরকারি দায়িত্ব পালন করতেই গেছেন। তারা তো জানতেন না এ রকম একটা ঘটনা ঘটবে। আমরা যারা আছি আমরা তো তার কাজ করি। আমরা সবাই কাজ করতে পারি। গতকাল আমাদের প্রতিটি লোক কাজে ব্যস্ত ছিল।’

পাঠকের মতামত

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সক্রিয় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা ফেরানোর উদ্যোগ ...
Single Page Footer