
ভারতে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনার পর নতুন মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এদিকে সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং এপিসি (আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার) ভ্যান ব্যবহার করে দিল্লি পুলিশ। এতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটি বিভিন্ন জেলার ছাত্র সংসদ ও শিক্ষার্থী সংগঠনকে স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
নিট পরীক্ষা বাতিল এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছিল। তবে সোমবারের সংঘর্ষের পর আন্দোলনে নতুন গতি আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর পর আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দেন।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও উত্তেজনা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।

পাঠকের মতামত