ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৭/০১/২০২৩ ৯:৩৩ পিএম

পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতসহ সকল পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের ঢল নেমেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকের আশানুরূপ দেখা মিলছে না অনেকদিন ধরে। সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়ায় পর্যটকের আকর্ষণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আর বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে কি করা প্রয়োজন তা নিয়ে খতিয়ে দেখছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সেল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ০৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা বাংলাদেশ মনিটর আয়োজিত তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কুতুবদিয়া-মহেশখালীর সৌন্দর্য গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবালসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রবাল দ্বীপও রাখতে হবে, সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যও রাখতে হবে এবং পর্যটকও যেতে হবে। এ দুটোর সমন্বয় করে কাজ করতে হবে সবাইকে । মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া অনেক সুন্দর। সেখানেও পর্যটক যেতে হবে। কুতুবদিয়া দ্বীপ ভারতের গোয়ার মত মনে হয়।

পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, কক্সবাজারের সাবরাং, নাফ ও সোনাদিয়াতে তিনটি পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকার কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে বহুমূখী পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। কক্সবাজারের আকর্ষনীয় পর্যটন স্পটের বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। ফলে ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্প আরো এগিয়ে যাবে। সরকার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ মানুষের রোজগার পর্যটন শিল্প নির্ভর। সরকারি ছুটি কিংবা বিশেষ কয়েকটি দিনে পর্যটকের সমাগম তেমন হয় না। পর্যটক থাকলে সবকিছু চাঙ্গা থাকে আর পর্যটক না থাকলে সবকিছু ঝিমিয়ে পড়ে। এছাড়া বিদেশি পর্যটক তেমন একটা নেই। এর কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, কক্সবাজারে বিদেশিদের জন্য আলাদা জোন সৃষ্টি করতে হবে।এজন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দুইটি পয়েন্ট,সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়াতে বিদেশি পর্যটক জোন করার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় পর্যটক দম্পতি ওসমান গনি ও লিলি চৌধুরীর সঙ্গে। তারা জানান, গত ২৩ জানুয়ারি আমরা কক্সবাজার এসেছি। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারের কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, ইনানী ও হিমছড়ি পাথুরে সৈকত। আজকে আবার আমরা সৈকতে নামবো গোসল করার জন্য। খুবই ভালো লাগছে কক্সবাজার।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ জানিয়েছেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প কক্সবাজারের প্রাণ। পর্যটক না থাকলে এর আর্থিক প্রভাব পড়ে তৃণমুল পর্যায় পর্যন্ত। সরকার বিদেশি পর্যটকের আকর্ষণ বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়াটা এই শিল্পের জন্য খুবই ইতিবাচক। বিভিন্ন পর্যটন দ্বীপে অবাধে আসা যাওয়ার পথ সহজ করলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমরা চাই, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।

কক্সবাজার সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্ট প্রধান অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ জানিয়েছেন, বছরের অধিকাংশ সময় কক্সবাজারে সন্তোষজনক পর্যটক থাকে। তাতে দেশী পর্যটকও থাকেন। পর্যটন মন্ত্রণালয় যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা যথাযত বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্প আরও চাঙ্গা হবে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন আছে। নেতিবাচক প্রচারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

চলতি পর্যটক মৌসুমে দেশী পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত কক্সবাজার। এ কারণে খোশমেজাজে আছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। গত ২৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার লক্ষীপূঁজা থাকায় দেশের প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় অনেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে।তার উপর শুক্র, শনিবার সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে তিন দিনের ছুটিতে জমজমাট কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে সকল পর্যটন স্পট।

কক্সবাজার হোটেল অফিসার্স ওনার্স এসোশিসেনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ জানান,পাঁচশতাধিক হোটেলের সবকটি হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং। সব মিলিয়ে দেড় লক্ষাধিক পর্যটক এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল মোটেল জোনের সভাপতি মুকিম খাঁন জানান,দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ভালো, তাই পর্যটকে মুখরিত এখন কক্সবাজার। সেবারমান ও বেড়েছে সবকটি হোটেলে।

সৌদিয়া চেয়ার কোচ( বাস) এর কাউন্টার ম্যানেজার আবু বক্কর জানান, কক্সবাজার – চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা মহাসড়কে শতাধিক কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়ি চলাচল করছে, কোন গাড়িতে সিট খালি নেই।প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক ঢুকছে কক্সবাজারে।তা ছাড়া অসংখ্য পিকনিকের গাড়ি ও আসছে।

কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, কয়েকদিনের সরকারি ছুটি থাকায় বেশ কিছু পর্যটক এসেছে কক্সবাজারে। পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্টে আমাদের সেবা কেন্দ্র রয়েছে।

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানালেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত

সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ ...