প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০১৭ ২:০৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৩১ পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট ::
মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ’তে (ইউপিআর) রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ জোরালো মতামত দেবে। রবিবার সকালে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ বিষয়ক এক কর্মশালায় বলেন, ‘এবারের রিভিউতে রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা হবে এবং এ বিষয়ে আমাদের জোরালো মতামত থাকবে।’

বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ফাইল ছবি)
তিনি জানান, গতবার ২০১৩ সালের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউতেও রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ এ বিষয়ে মতামত দিয়েছিল। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

জেনেভাতে আগামি বছরের মে মাসে তৃতীয়বারের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা হবে জানিয়ে সচিব আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম রিভিউ হয়েছিল ২০০৯ সালে যেখানে ৪৫টি দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিল। এরপর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় পর্যালোচনায় ৯৫টি দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেছিল এবং এবারে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রতিবদ্ধ এবং এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউয়ের মোট সাতটি রিপোর্টের মধ্যে পাচঁটি রিপোর্ট বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জমা দিয়ে দিয়েছে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সামনের বছরের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। এটি কোনও দেশের জন্য সহজ নয়, আমাদের জন্যও সহজ হবে না। যখন একটি দেশ আরেকটি দেশকে প্রশ্ন করে তখন বিভিন্ন অবস্থান থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশ্ন করে এবং এর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দিতে হয় বলে এটি অত্যন্ত কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘এই গোটা প্রক্রিয়াটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কারণ যখন একটি দেশ আরেকটি দেশকে প্রশ্ন করে তখন সেটি পুরোপুরি রাজনৈতিকধর্মী হয়।’

এবারের রিভিউতে আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়টি আলোচিত হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি এবার আসবে। আমরা আশা করি আমাদের সঠিক উত্তর এ প্রেক্ষাপটে হবে।’

পররাষ্ট্র সচিব জানান, ২০১৩ সালের রিভিউতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সব মিলিয়ে ১৯৬টি সুপারিশ করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে পাচঁটি সুপারিশ বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। এই পাচঁটি সুপারিশ করা হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড রহিত এবং সমকাম বিষয়ক।

বাংলাদেশের স্থানীয় আইনে মৃত্যুদণ্ড প্রচলিত আছে, সে কারণে এ সংক্রান্ত সুপারিশ বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। এছাড়া বাংলাদেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ধারণা সমকামিতা সমর্থন করে না এবং বাংলাদেশ জেনেভাতে পরিস্কার জানিয়ে এসেছে তাদের পক্ষে এ সুপারিশ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

পাঠকের মতামত

রাখাইনের বাসিন্দাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

রাখাইনের বাসিন্দাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ মংডু শহরের প্রবেশপথ। ছবি সংগৃহীত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ...