প্রকাশিত: ১৫/১১/২০১৬ ৯:০৮ পিএম

এম বশর চৌধুরী, উখিয়া::

কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য রয়েছে মাত্র       ৩ জন স্বাস্থ্যসহকারী। জন সংখ্যার অধিক চাপের কারনে গত ১ বছর আগে ঘুমধুম ইউনিয়ন কে দুইভাগে বিভক্ত করে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন নামে আরেকটি ইউনিয়ন করা হলেও ওই ইউনিয়নের জন্য সরকারী ভাবে আলাদা কোন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। যার কারনে ঘুমধুম ইউনিয়নে দায়িত্বরত ৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে দুই ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দাবী উঠেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩টি শূন্যপদে ৩ জন স্বাস্থ্যসহকারী এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জন্য স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি করে নতুন ভাবে স্বাস্থ্যসহকারী নিয়োগ দেওয়ার।

জানা যায়, ঘুমধুম ইউনিয়নে ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী এবং ১ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদ সরকারী ভাবে থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে ওই ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারীর ৩টি পদ শুন্য রয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবছার জানান, ঘুমধুম এবং সোনাইছড়ি দূর্গম এলাকা। এখানকার জনসংখ্যার বেশির ভাগ অশিক্ষিত এবং গরীব। তারা স্বাস্থ্য সচেতন নয়। মাত্র ৩ জন স্বাস্থ্যসহকারী দিয়ে    ২ ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। যার কারনে দরিদ্র জনগোষ্টি বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই জরুরী ভিত্তিতে শূন্য পদে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জন্য আলাদা জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। ঘুমধুম গ্রামের বাসিন্দা এডভোকেট মোঃ শাহাজাহান জানান, ঘুমধুম এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন মায়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাঝে মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজনদের অগোচরে অবৈধভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে লোকালয়ে মিশে যায়। এসব রোহিঙ্গারা বিভিন্ন জঠিল ও ছোঁয়াছে রোগে আক্রান্ত। এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য সচেতন না হওয়ায় এবং ৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে বিশাল জনগোষ্টির মাঝে সচেতনতা ফিরিয়ে আনা অনেকটা অসম্ভব। তিনি শূন্যপদে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জন্য আলাদা জনবল সৃষ্টির দাবী জানান। এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, ঘুমধুম ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসহকারীর পদ শূন্য থাকায় এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জন্য স্বাস্থ্য সহকারীর পদ না থাকায় সাধারন জনগোষ্টি, হাম, যক্ষা, পোলিও, ধনুষ্টংকর, রাতকানা, হেপাটাইটিস বি, হিমোফাইলেস ইনফুলেঞ্জা বি, ডায়েরিয়া, নিমোনিয়া সহ বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার উদয় শংকর চাকমা জানান, বিষয়টি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতি দ্রুত ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে জনবল পদায়নের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট’

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সব নাগরিকের রয়েছে, এটা সংবিধানে গ্যারান্টি ...

ইনানীতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

অবশেষে কক্সবাজারে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক ফায়ার স্টেশন। অর্থনৈতিক এবং ...