
গরু কোরবানি সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গত ১৩ মে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি মূলত ২০১৮ সালে আদালত নিজেই যে নির্দেশাবলি জারি করেছিল, তারই বাস্তবায়ন মাত্র।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয় যে, হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশগুলি মেনেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বেঞ্চ জানায়, ‘২০১৮ সালের ডব্লিউপি ৩২৮ মামলার ক্ষেত্রে সমমর্যাদাসম্পন্ন একটি বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছিল, তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এমতাবস্থায়, ১৩ মে ওই জনবিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত বা বাতিল করার কোনও ভিত্তি আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সুতরাং, ১৩ মে তারিখের ওই বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গটি যতদূর জড়িত, ততদূর পর্যন্ত এই আবেদনগুলি খারিজ করা হল।’
আদালত তার রায়ে আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, সুপ্রিম কোর্টের আগে রায় দিয়েছিল যে, গরু কোরবানি দেয়া ঈদুল আজহার কোনও অপরিহার্য অংশ নয় এবং ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি কোনও বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়।
বেঞ্চ জানায় যে, আদালতের উল্লিখিত দুটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিতে তারা ‘কোনও অসুবিধা’ দেখছে না এবং আদালত অবিলম্বে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, কয়েকজন আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যে ছাড় বা অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর ১২ ধারার অধীনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রাজ্য সরকারের রয়েছে।
বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ‘বকরি ঈদ এই মাসের ২৭ বা ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে, রাজ্য সরকারকে এই আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।


পাঠকের মতামত