প্রকাশিত: ২৯/১২/২০১৭ ৯:৫৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:৪৭ এএম

নিউজ ডেস্ক::

দুঃস্থদের জন্য সৌদি আরব থেকে পাঠানো দুম্বার মাংস প্রতি বছর পেলেও এবার পায়নি মাদারীপুরের এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো। মাংস কোথায় কীভাবে বিতরণ হয়েছে সেটি জানেন না প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। তারা অভিযোগ করছেন, বিতরণকারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মীরাই ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছে এই মাংস। তবে বিরতণকারীদের দাবি, সব কিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।মাংস বিতরণ নিয়ে অনিয়মের কথা লোকমুখে ছড়িয়েছে জেলায়। এ নিয়ে সরকারি কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনাও হচ্ছে।

জেলার চার উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে বিতরণ করা হয় এই মাংস। মোট ৪০২ কার্টন মাংস এসেছিল এই জেলার জন্য। প্রতিটি কার্টনে ১০ কেজি করে মোট চার হাজার ২০ কেজি মাংস বিতরণ করার কথা।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এই মাংস চার উপজেলায় পাঠানো হয়। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসব মাংস গ্রহণ করেন। নিয়ম লঙ্ঘন করে এই মাংস পরে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক এতিমখানার পরিচালক জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান ও প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যক্তিগত কারণে উপজেলায় কর্মরত না থাকায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় উপস্থিত কয়েকজনের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। অনেক অনুরোধ করেও প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় মাংস দেয়া হয়নি। কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও পেয়েছেন এই ভাগ।

সরকারি শিশু পরিবার (বালক) সহকারী তত্ত্বাবধায়ক আজিজুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রতি বছর এই এতিমখানার ১০০ জন এতিমদের জন্যে দুম্বার মাংস দেয়া হয়। অথচ এই বছর আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। গোপনে কাদের মাঝে মাংস দেয়া হয়েছে, তাও জানি না।’

জানতে চাইলে মাংস বিতরণকারী ভূমি কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সঠিক নিয়মে গোশত বিতরণ করা হয়েছে।’

মাদারীপুর জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা গোবিন্দ্র চন্দ্র রায় জানান, গবির, দুঃস্থ ও এতিম পরিবারের জন্যে সৌদি আরব থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্যাকেটে মাদারীপুর সদর উপজেলায় ১০১ কার্টন, কালকিনি উপজেলায় ১০৬ কার্টন, রাজৈর উপজেলায় ৬৫ কার্টন ও শিবচর উপজেলার জন্যে ১৩০ কার্টন দুম্বার মাংস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এতিমখানা, মাদ্রাসা অথবা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরিবদের মাধ্যে এগুলো বিতরণ করার কথা। সরকারি কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তার এই মাংস নেয়ার কথা নয়। যদি কেউ নিয়ে থাকে তা অন্যায় হয়েছে।’

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যতটুকু মাংস বরাদ্দ হয়েছে তা উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পাঠানো হয়েছিল। তারা কীভাবে বিতরণ করেছে তা আমার জানা নেই। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাঠকের মতামত

টেকনাফে জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পন্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা অবরুদ্ধ!

“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে ...

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গাইডলাইন অনুমোদন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (এলএসবিই) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইডলাইন উপস্থাপন ও অনুমোদনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ...

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ...

অপহরণ-সন্ত্রাসে জনশূন্য জুম্মাপাড়া, আতঙ্কে ঘরছাড়া ২০০ পরিবার

রহমত উল্লাহ • কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ ...
Single Page Footer