ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২২ ৬:৫৫ পিএম

কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলা ভৃমি অফিসের রেকর্ড রুমের ভলিয়ম বই থেকে জমির আসল বি.এস. খতিয়ানের পাতা গায়েবের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ভুঁয়া খতিয়ানের মাধ্যমে টেকনাফ উপজেলা বাহার ছড়ার একখণ্ড জমির ভুয়া দলিল করা হয়েছে। এখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে প্রভাবশালী দালাল হেলাল উদ্দিন গং তা দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াহালী পাড়ার মৃত মকতুল হোসেনের পুত্র আজগর হোসেন, দেলোয়ার হোসাইন ও আব্দুল্লাহ মামুন ১.৪৪ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করছেন।

মতৃ মকতুল হোসেনের পুত্রদের দাবি, ভৃমি অফিসের দালাল হেলাল উদ্দিন গং ওই জমি হাতে পাওয়ার জন্য কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, বাহারছড়ার বড় ডেইল মৌজার বিএস-১৭৫ নং খতিয়ানের ৫২৪৭,৫২৪৮,৫২৪৯, ৫২৫০ ও ৫২৫২ দাগের সবকিছু পরিবর্তন করেন দালাল হেলাল উদ্দিন ও তার চক্রের সদস্যরা।
নাছির উদ্দিন ও মোক্তাল হোসেন- পিতা করম আলী, সাং নোয়াখালী পাড়া,টেকনাফ।

এদিকে নাছির উদ্দিন ও মোক্তাল হোসেন- পিতা ফজর আলী- সাং বড়ডেইল। বিষয় টা কমন পড়েছে প্রতারক চক্রের এক ধরনের নাম তাই।

বড়ডেইল মৌজার বিএস-১৭৫ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক মোক্তাল হোসন গং পিতা করম আলী,, কিন্তু উল্লেখিত খতিয়ানে ১৪ জনের নাম থাকলেও নেই কোন ফজর আলী নামে কেহই,তবু খতিয়ানে নামের মিল দেখে প্রতারণায় আশ্রয় নিয়েছে ভূমি দস্যু প্রতারক চক্র।

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এসব ভুয়া দলিলের গ্রহীতা হচ্ছেন, মোঃ আনিসুর রহমান, পিতা-মোঃ সোলতান খান, মাতা-মনোয়ারা বেগম, গ্রাম ও ডাকঘর-মকিমপুর, উপজেলা-ব্রাহ্মন পাড়া, জেলা-কুমিল্লা। তিনিসহ জালিয়াতির চক্রের ভূমি প্রতারকরা তড়িঘড়ি করে এসব ভুয়া দলিলে নামজারী খতিয়ান সৃজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন জমি প্রকৃত মালিক আজগর হোসেন গং এবং ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান এসব ভুক্তভোগীরা।

সুত্রে জানা যায়, টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকার ফজর আলী এবং নোয়াখালী পাড়া এলাকার করম আলী দুই পরিবারের কেউ একজন আরেকজনের নিকট আত্মীয় না হলেও কাকতালীয় ভাবে উভয়ের ছেলে মেয়েদের নামের মিল থাকার কারণে বড় ডেইল এলাকার ফজর আলীর ওয়ারিশদের কে করম আলীর ওয়ারিশ হিসেবে প্রত্যায়ন পত্র দেয়। আদালতে চলমান মামলায় চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করেন বিএস জরিপের সময় ভুলবশত ১৭৫ নং বিএস খতিয়ানে ফজর আলী নামের স্থলে করম আলী লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাই প্রত্যয়নে ফজর আলী ওরফে করম আলীর নামে প্রত্যয়ন দেয় চেয়ারম্যান। যাহার স্মারক নং- ৫৯০৪/২০২২, তারিখঃ ৩০/০৮/২০২২ইং। অথচ ১৭৫ নং খতিয়ানের বিরুদ্ধে ২য় বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত মামলা নং ১৬৪/১৮, যাহা বর্তমানে টেকনাফ সহকারী জজ আদালতে ২৯৮/২১ ইং মামলায় বিভাগীয় মামালার আদেশে ১৭৫ নং খতিয়ানের সকল ধরনের কার্যক্রমের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

অভিযোগের সুত্র ধরে জানা যায়, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজার আওতাধীন বিএস ১৭৫ নং খতিয়ানে রেকর্ডীয় মালিক না হয়েও ভুয়া ওয়ারিশা সনদ নিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে পরপর তিন টি সাব-কবলা দলিল করে ১.৪৪একর জমি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিন টি দলিল সম্পাদন করে ৭২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে আজগর হোসেন গং।

সুত্র মতে, বড় ডেইল মৌজার বিএস ১৭৫ নং খতিয়ানের মকতুল হোসেন গং সহ ১৪ জন রেকর্ডীয় মালিক, উক্ত খতিয়ানে জমির পরিমাণ ৯.৫০ একর। এর মধ্যে মকতুল হোসেন ও ভ্রাতা নাছির উদ্দিন উভয়ের নামে ‘১ আনা চার গন্ডা’ করে চূড়ান্ত খতিয়ানে প্রচার আছে, ফরায়েজ অনুযায়ী এই খতিয়ান থেকে তারা উভয়ে ১.৪৪ একর জমির মালিক হয়। এতে মকতুল হোসন ও নাছির উদ্দিন উভয় পিতা করম আলীর নাম বিএস খতিয়ান রেকর্ড রয়েছে।

ভূমি প্রতারক চক্রটি বা জমির দালালরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১৪ জন রেকর্ডীয় মালিকের তালিকায় ফজর আলীর নাম না থাকলেও একজন ভুয়া ফজর আলীকে প্রকাশ করম আলী সাজিয়ে ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নে ফজর আলী প্রকাশ করম আলী নামের ব্যক্তি কে চিনি, বা জানি বলে ১৭৫ নং খতিয়ানে নাম না থাকা স্বত্বেও করম আলী আর ফজর আলী এক ব্যক্তি বলে প্রত্যয়ন পত্র নেয় দালাল গং ।এতে করম আলীর ওয়ারিশাগং এর রেকর্ডীয় জমি ফজর আলীর ভূয়া ওয়ারিশগন মিলে বিক্রি করে ৭২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেই এই দলিল জালিয়াতি প্রতারক চক্রটি।

উখিয়া নিউজ ডটকমের   সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

দলিল জালিয়াতি প্রতারক চক্র কক্সবাজারের বাহিরের বড় ব্যবসায়ি, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবি, বড় বড় কোম্পানিদের কে জালিয়াতির মাধ্যম একজনের সম্পত্তি অন্য জনের নামে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে সাব রেজিস্টারি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময় চুক্তি করে জমির রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদন করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে । জমি গ্রহীতাগং স্বয়ং স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন পাওয়ার কারণে জমি নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিস ও সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকতাদের যোগসাজশে এমন কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মকতুল হোসেনের পুত্র আজগর হোসেনের।

জমি দখল নেয়ার জন্য মকতুল হোসেনের পুত্র সন্তানদের উচ্ছেদের হুমকি দেয় হেলালের লোকজন। তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মকতুল হোসেনের পুত্র সন্তানরা।

খতিয়ান পাল্টানোর বিষয়টি প্রকাশ পেলে টেকনাফ ভৃমি অফিসে এসে ১৭৫ নং খতিয়ানটি পুনরায় তোলা হয়। এতে দেখা যায় ফজর আলী নামে কারও নাম উক্ত খতিয়ানে নেই।

অভিযুক্ত দলিলের বর্ননা সুত্রে জানা যায়, গত, ১৭/৮/২২ইং তারিখে টেকনাফ উপজেলা সাবরেজিস্টার অফিসের ৩১৮০ নং দলিলে .৮৫১৫ একর, ২২/৮/২২ইং তারিখে ৩২০২ নং দলিলে .২১৯১ একর ও ৩১/৮/২২ ইং তারিখে ৩৩৮৮ নং দলিলে .৩৭৬২ একরসহ মোট ১.৪৪ একর জমি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পাদন করে এমন অভিযোগ করেছেন আজগর হোসেন গং।

এসব ভুয়া ওয়ারিশগং হচ্ছেন স্থানীয় বাহারছড়া বড়ডেইল এলাকার মৃত নাছির উদ্দীনের পুত্র জাফর গং। মূলত জালিয়াতির মাধ্যমে নকল কাগজ পত্র সৃজন করে বিএস১৭৫ নং খতিয়ানের ৫২৪৭,৫২৪৮,৫২৪৯,৫২৫০ ও ৫২৫২ দাগসহ আরো বেশ কিছু ঐ খতিয়ানের বিএস দাগ থেকে জমি হাতিয়ে নেয়া হয়। এসব অভিযুক্ত জমির প্রকৃত জমির মালিক ৯নং ওয়ার্ড নোয়াখালী পাড়া এলাকার মৃত মকতুল হোসেন লোকান্তরে তার পুত্র আজগর হোসেন, দেলোয়ার হোসাইন ও আব্দুল্লাহ মামুন গং।
এরপর ভৃমি অফিসের দালাল হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে টেকনাফ ভৃমি অফিসে অভিযোগ করেন জমির প্রকৃত মালিকরা। কোন প্রতিকার পাননি।

এই বিষয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন,আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা প্রচার করছে। আমি কাগজ দেখে জমি কিনেছি।

উল্লেখ, বড়ডেইল মৌজার বি.এস ১৭৫ নং খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক মোক্তোল হোসেন, নাছির উদ্দিন, উভয় পিতা-করম আলী। বি,এস ১৭৫ নং খতিয়ানের ৯.৫০০০ একর জমিতে মক্তোল হোসেন /৫ (এক আনা পাঁচ গন্ডা) এবং নাছির উদ্দিন /৫ (এক আনা পাঁচ গন্ডা) হিস্যাংশে মোট ১.৪৪৪৩ একর জমির মালিক। খতিয়ানের অপরাপর অংশীদারগণের সাথে মৌখিক আপোষ বন্টন সূত্রে মক্তোল হোসেন ও নাছির উদ্দিন বি,এস ১৭৫ নং খতিয়ানের ৩১ টি দাগের সামীপে বি,এস ৫২৪৮, ৫২৪৯, ৫২৫০, ৫২৫২, ৫২৪৫, ২২৪৭, ৫২৯৯, ৫২৩২, ৫২৩৪ ও ৫২৩৬ দাগাদীর আন্দর ১.৪৪একর জমিতে ভোগ দখলে থাকাবস্থায় মক্তোল হোসেন লোকান্তরে আমি আবেদনকারী সহ ০৩ জন এবং নাছির উদ্দিন অবিবাহিত ও নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরন করিলে তাহার ০.৭৪২২ একর জমিতে আজগং কিছমত মালিক হিসাবে মোট ১.৪৪ একর জমিতে অদ্যাবধি ভোগ দখলে আছে। বাংলাদেশ জরিপের বি এস ১৭৫ নং আসল খতিয়ানে নাছির উদ্দিন ও মক্তোল হোসেন, পিতা-করম আলী লিপি থাকিলেও উপরোক্ত বিষয়ে বর্ণিত কবলাদীর দাতাগণ প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বি,এস ১৭৫ নং খতিয়ানের ভূয়া, ফেরবী ও জাল সহি মুহুরী নকলে নাছির উদ্দিন ও মোক্তোল হোসেন, পিতা-ফজর আলী লিপি করে। টেকনাফ সাব রেজিস্টারি অফিসের ১৭/০৮/২০১২ইং তারিখের ৩১৮০ নং দলিল মূলে ০. ৫১৫ একর, ২২/০৮/২০১২ইং তারিখের ৩২০২ নং দলিল মূলে ০.২১৯১ একর ও ৩১/০৮/২০১২ইং তারিখের ৩৩৮৮ নং দলিল মূলে ০.৩৭৬২ একর, মোট (০.৮৫১৫+০.২১৯১+০.৩৭৬২ ) = ১.৪৪৬৮ একর জমি উপরে বর্ণিত বিবাদীর বরাবরে শুধুমাত্র কাগজে রেজিষ্ট্রি প্রদান করিলেও উক্ত জমির আমল দখল ভুয়া গ্রহীতার বরাবরে হস্তান্তর করিতে পারে নাই। কারন আমি ও আমার অপরাপর ভাই গণ বর্ণিত কবলা সমূহের বি.এস ৫২৫০, ৫২৫২, ৫২৪৫, ৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫২৯৯, দাগাদীর ১.৪৪ একর জমিতে ভোগ দখলে বিদ্যমান আছে আজগর আলীগং। অধিকন্তু বি,এস ১৭৫ নং খতিয়ানের বি.এস ৩১ টি দাগের ৯.৫০ একর জমিন সংক্রান্ত ব্যাপারে বিজ্ঞ যুগ্ম-জেলা জজ্ব হয় আদালতের অপর ১৬৪ / ২০১৮ নম্বর (বর্তমান টেকনাফ সহকারী জজ আদালতের অপর ২৯৮ / ২০২১ নম্বর) বিভাগ মামলায়২৩/১০/২০১৮ইং তারিখের ০৬ নং আদেশ মূলে তপশীল বর্ণিত জমির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী থাকাতে বিবাদীর নামীয় বিষয়ে বর্ণিত ০৩ কিতা করলায় উল্লেখিত বি.এস ৫২৪৮, ৫২৪৯, ৫২৫০, ৫২৫২, ৫২৪৫, ৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫২৯৯, দাগাদীর আন্দর ১.৪৪৬৮ একর জমির নামজারী খতিয়ান সৃজন কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আজগর হোসেনগং টেকনাফ ভূমি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছে বলে জানান।

পাঠকের মতামত

মাতৃভূমি রক্ষায় প্রতিটি সদস্য আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত: কক্সবাজারে সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের ...

রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিস্মৃত সংকট হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফররত জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জুলিয়েটা ভালস নোয়েস বলেছেন, তার ...