প্রকাশিত: ৩০/০৪/২০২০ ৩:০৪ পিএম , আপডেট: ৩০/০৪/২০২০ ৪:১৮ পিএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::
করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাড়ি ও কর্মীর সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি তৈরি করেছে যেন মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলো সময়মতো জরুরি সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ডব্লিউএফপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর ফলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যাম্পে গাড়ির প্রবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এপ্রিল মাসের শুরুতে ক্যাম্পে প্রবেশ সীমিত থাকাকালীন সময়ে আরআরআরসি প্রতিদিন গাড়ির একটি তালিকা অনুমোদন করত। সেই তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় ও জাতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রতিটি গাড়ির অনুমোদনপত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাচাই করে দেখতো, যার ফলে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হতো এবং ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে কম সময় পাওয়া যেত।

এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে ও একে আরও সুদক্ষ করে তুলতে হিউম্যানিটেরিয়ান একসেস প্রজেক্ট-এর আওতায় ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে গাড়িগুলোর দেরি না হয় এবং চেকপয়েন্টে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যায়। এছাড়াও, যাত্রী ও চালকদেরকে এখন গাড়ি থেকে নেমে নির্ধারিত বইয়ে স্বাক্ষর করতে না হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের পক্ষে শারীরিক দূরত্বের ব্যাপারটি চর্চা করতেও সহায়ক হচ্ছে।

চেকপয়েন্টে কোন সংস্থার কোন গাড়ি ক্যাম্পে যাচ্ছে তা চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষকে গাড়িগুলোর জন্য নির্ধারিত কিউআর কোড স্ক্যান করার কাজে সহায়তা করছেন ডব্লিউএফপি-এর কর্মীরা, যার ফলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করে ক্যাম্পে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জনাব মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের অন্যান্য শহর ও নগরে কোভিড-১৯ এর বিস্তার শুরু হয়ে গেছে, তাই আরআরআরসি অফিস থেকে আমরা এমন একটি সমাধান বের করতে চেয়েছি যেন আমরা ক্যাম্পে জরুরি সেবাগুলো দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, ডব্লিউএফপি, আইএসসিজি ও লজিস্টিক সেক্টর সীমিত সংখ্যক কিছু গাড়ির জন্য কিউআর কোড সম্পন্ন গাড়ির পাস-এর আইডিয়াটি নিয়ে এসেছিল। গাড়ি মনিটরিংয়ের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এখন আমরা প্রতিদিন কতগুলো গাড়ি ও কতজন যাত্রী যাচ্ছেন, তা যাচাই করে দেখতে পারি। এই প্রক্রিয়ার সাথে যারা সরাসরি যুক্ত আছেন, তাদের প্রতি আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডব্লিউএফপি-এর প্রতিনিধি রিচার্ড রেগান বলেন, জরুরি অবস্থার মতো দ্রুত গতিশীল পরিবেশে প্রকল্প হাতে নেওয়া ও সেগুলোকে চালু রাখার জন্য সংস্থাসমূহ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পে গাড়ি ও কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনার মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা দেওয়া ও ক্যাম্পে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি কমানোর জন্য গোটা মানবিক সহায়তা গোষ্ঠী কঠোরভাবে পরিশ্রম করছে।

বর্তমানে ৮টি চেকপয়েন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সাথে ডব্লিউএফপি-এর ১২ জন কর্মী গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করছে।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে ‘হত্যা’, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ...

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ...

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...