প্রকাশিত: ০৫/০৪/২০১৮ ৭:৪৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:৩৫ এএম

নিউজ ডেস্ক::
বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের চাকরিজীবী নাগরিকের একটি বড় অংশ এখনো করের আওতায় আসেনি। তারা প্রতিবছর বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দিচ্ছে। তাদের বিষয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভিযোগ আছেÑ অনেক বিদেশি আছেন, যারা উচ্চ বেতনে বাংলাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও আয়কর বিবরণী জমা দেন না বা কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকৃত বেতন-ভাতা বিবরণীতে উল্লেখ করেন না। বিদেশি নাগরিকদের এ কর ফাঁকি ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর।
জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলংকা, চীন, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ছাড়াও ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাগরিক মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরি করেন। দেশে অবস্থিত গার্মেন্টস, বায়িং হাউজ ও লিয়াজোঁ অফিস, ব্রাঞ্চ অফিসগুলো তাদের চাকরির ক্ষেত্র। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, ওষুধ, বিপণন ও সেবাসহ নানা খাতেও কাজ করছেন তারা। এসব কর্মকর্তা ৩ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পান প্রতিমাসে। আবার কেউ-কেউ এর চেয়েও বেশি বেতনে চাকরি করেন। তাদের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ বোর্ড এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (বেপজা) ওয়ার্ক পারমিটে বেতন কম দেখাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি এসব করফাঁকিবাজকে করজালের আওতায় আনতে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে তথ্যবিনিময় সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে এনবিআর। এর আওতায় করনেট বহির্ভূত বিদেশি নাগরিকদের কী-কী তথ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের সফটওয়্যারের ব্যাকআপ থেকে এনবিআরের প্রক্রিয়াধীন সফটওয়্যারে সিস্টেম টু সিস্টেম পাওয়া যেতে পারে, তার একটি তালিকা স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ও বাংলাদেশ পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এনবিআর। সভায় ‘বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের করনেটে আনয়ন’ বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ করনেটের বাইরে রয়েছে। যাদের করনেটের আওতায় আনার জন্য এনবিআর বিভিন্ন কর্মকৌশল হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে একটি সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে করনেটের বাইরে থাকা বিদেশি চাকরিজীবীদের শনাক্ত করা যাবে। ওই সফটওয়্যারে বিমান বন্দরগুলোয় ইমিগ্রেশনের সফটওয়্যারে রাখা কিছু ডেটা লাইভ শেয়ার করা প্রয়োজন, যা এসবির কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এজন্য ইমিগ্রেশনের ডেটাগুলো শেয়ার করার লক্ষ্যে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এনবিআরের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়া প্রয়োজন।
সভায় বলা হয়, সব বিদেশি নাগরিকের ডেটাবেজ সংশ্লিষ্ট একটি সফটওয়্যার তৈরির যে কার্যক্রম চলামান রয়েছে, তার জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশের কিছু তথ্য যেমনÑ ব্যক্তির নাম, জাতীয়তা, বাংলাদেশে আগমন ও বহির্গমনের তারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, কোনো একটি ঠিকানা অপরিহার্য। সিস্টেম টু সিস্টেমে ডেটা বিনিময় করা হলে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ করা সম্ভব হবে, যা থেকে ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে করনেটের বাইরে থাকা বিদেশিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ইন্টিগ্রেটেডভাবে কাজ করতে হবে বলে সভায় একমত পোষণ করা হয়।
সূত্র জানায়, এর আগে বিদেশি কর ফাঁকিবাজদের করের আওতায় আনতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এনবিআরের সব কর অঞ্চলে ইতোমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিদেশি নাগরিকরা কর্মরত রয়েছেন, এমন দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা এনবিআরে পাঠাতে বলা হয়। এরই ধরাবাহিকতায় মাঠ পর্যায়ের কর অফিসগুলো থেকে এনবিআরে তালিকা আসতে শুরু করেছে। এনবিআরের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানে অভিযানে যাচ্ছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে কতজন বিদেশি কর্মরত আছে তাদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্প্রতি জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বৈধভাবে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন ৪৪ দেশের ৮৫ হাজার ৪৮৬ বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৮৫ জনই নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বেশি আছেন ভারতের নাগরিক। এ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন এ দেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত; কিন্তু এনবিআরের কর অঞ্চল-১১তে বাংলাদেশে কর্মরত মাত্র ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক গত করবর্ষে তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেন। এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ কেবল ভারতেই প্রতিবছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি কর্মীদের করের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অধিকাংশ বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে থাকেন। এরপর বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। আবার বিভিন্ন কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আসা বিশেষ করে এনজিও, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, গার্মেন্টস, মার্চেন্ডাইজিং, পরামর্শকসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা গোপন রাখা হচ্ছে সমঝোতার ভিত্তিতে। মূলত কর ফাঁকি দিতেই এ কৌশল অবলম্বন করছেন কতিপয় দেশি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গোপন চুক্তি অনুযায়ী, বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মানি লন্ডারিংয়ের আশ্রয় নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া অবৈধভাবে আসা বিদেশিরা প্রতারণা, চোরাচালান ও জাল মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আবার অনেক বিদেশি নাগরিক অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশের পর ঠিকানা পরিবর্তন করে ফেলছেন। ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
সূত্র জানায়, দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের করজালের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি স্থলবন্দরে আয়কর বুথ খুলেছে এনবিআর। ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে আয়কর বুথের দায়িত্বে সহকারী কর কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়নও করা হয়। এসব বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের আগে অবশ্যই বিদেশি নাগরিকদের আয়কর প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হচ্ছে। প্রত্যয়নপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে বিদেশ গমনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের সময়

পাঠকের মতামত

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ভল্ট ঘিরে রেখেছে পুলিশ

রাজধানী‌র ধোলাইখা‌লে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এ‌নে‌ছে ফায়ার সা‌র্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ব্যাংকের ...