জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৩ ৭:০৭ এএম

সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে ঋণ খেলাপীর তালিকা থেকে বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিন্নাত হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপির নির্বাচনে অংশ গ্রহণে আর বাঁধা রইল না।

গত ৬ ডিসেম্বর সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিন্নাত হকের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে বেঞ্চটি এ আদেশ দেন। পিটিশন নং (১৫৬৩৭)।
গত ৩ ডিসেম্বর প্রার্থীর যাচাই বাচাইয়ের দিনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহীন ইমরান খেলাপির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন। গত ৬ ডিসেম্বর ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন সালাহ উদ্দিন আহমদ।
রিটে তিনি উল্লেখ করেন গত ১১ নভেম্বর ২৩ ইং অর্থ ঋন যুগ্ম জেলা জজ আদালত চট্টগ্রাম সকল নথিপত্র পর্যালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে মামলা থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেন। একইভাবে ঋণ খেলাপীর তালিকা থেকে বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককেও নির্দেশ দেন ওই আদালত। পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি এই রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট জনতা ব্যাংক লালদীঘি শাখা চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে রায়ের কপি পাঠায়নি। না পাঠানোর কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটাবেজ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) তে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপির নামটি ঋণ খেলাপীর তালিকায় রয়ে যায়।

এদিকে সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপির আইনজীবি তফিকুল ইসলাম খান জানান, গত ৬ ডিসেম্বর সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিন্নাত হকের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এরপ্রেক্ষিতে বেঞ্চটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটাবেজ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) থাকা ঋণ খেলাপীর তালিকা থেকে তার নামটি বাদ দিতে নির্দেশ দেন। এর ফলে আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি নিবার্চনে অংশ নিতে বাধা রইল না।
জানা গেছে, ফিস প্রিজারভার্স লি: এর ম্যানেজিং ডারেক্টর সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিসহ ৬জন যৌথ অংশীদার ছিল। তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে জনতা ব্যাংক চট্টগ্রাম লালদীঘি শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ইতিপূর্বে কোম্পানির সকল সম্পদ এবং দায় দেনা চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়িকে বিক্রয় করে দেন তারা।
কোম্পানিটির মালিকানায় পরিবর্তন আসলেও পরবর্তীতে নানা কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার কারণে ঋণ খেলাপী হয়ে পড়ে কোম্পানিটি। ৬ জন মালিকের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিও কোম্পাটির ঋণের গ্যারান্টার ছিল। কিন্তু কোম্পানির মালিকানা ক্রয় করলেও তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেনি। পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। এসময়ে জনতা ব্যাংক চট্টগ্রাম লালদীঘি শাখা ঋণ খেলাপি হিসেবে কোম্পানির পূর্বের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ঋণের গ্যারান্টার হিসাবে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপির নাম থাকায় তাকে গত ৩ ডিসেম্বর তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. শাহীন ইমরান। তিনি মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশ চ‍্যালেঞ্জ করে ৬ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিটটি দায়ের করেন।

পাঠকের মতামত

উখিয়ায় ৩ জনের সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারি নেই

উখিয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুদামজাত করে রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করে যাচ্ছে কয়েকজন পাইকারি ...