ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬/০৪/২০২৪ ৯:১৮ এএম

ঈদ ও বাংলা নববর্ষের টানা ছুটিতে এবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ঘুরে গেছেন পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটক। ঈদের দিন কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকে বাড়তে শুরু করে পর্যটক। গত রোববার এই সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এতে জমে উঠেছে পর্যটন বাণিজ্য। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে হোটেল, রিসোর্ট ও
গেস্টহাউসে জায়গা হচ্ছে না। সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কেউ কেউ একাধিক হোটেল ঘুরে কক্ষ না পেয়ে ফিরে গেছেন। অনেককে রাত কাটাতে হয়েছে সৈকতে।

এদিকে পর্যটকের ঢল নামার সুযোগে হোটেল-মোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও রেস্তোরাঁয় বেশি দামে খাবার বিক্রি হয়েছে। বেশি টাকা নিতে ব্যবসায়ীরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। হোটেল ভাড়ার কোনো তালিকা না থাকায় ঠকছেন পর্যটকরা। এরই মধ্যে প্রতিটি হোটেলের ভাড়া (নরমাল) সর্বনিম্ন সাড়ে পাঁচ হাজারে ঠেকেছে। কিছু হোটেলের ভাড়া ৯ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, কক্সবাজারে পর্যটকের রাত যাপনের জন্য হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস ও কটেজ আছে চার শতাধিক। দৈনিক ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ২৮ হাজার জন। ঈদের দিন থেকে রোববার পর্যন্ত পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটক আসায় থাকার কক্ষ পাননি অধিকাংশই। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভোগে পড়েন তারা।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা আতিকুর রহমান উঠেছেন হোটেল হিলটপে। এর কিছুদিন আগে তিনি এই হোটেলে দুই বেডের কক্ষের জন্য ভাড়া দিয়েছেন ২ হাজার টাকা। কিন্তু এবার উঠেছেন পাঁচ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যে কক্ষের ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, এখন তা ৫ হাজার টাকা।

আরেক পর্যটক আকলিমা আক্তার বলেন, ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে। হোটেলগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মূল্য তালিকাও নেই। অতিরিক্ত টাকা না দিলে বুকিং পাওয়া যায় না।

কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ জানান, ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়। অবশিষ্ট কক্ষগুলো বুকিং হয়ে যায় রাতের মধ্যেই। ফলে ঈদের পরদিন যারা এসেছেন, তারা কক্ষ পাননি। এদিন দেড় লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন। একইভাবে শনি ও রোববার তিন লাখের বেশি পর্যটক আসেন। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

হোটেল মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর ঈদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সৈকতে চার লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছিল। ব্যবসা হয়েছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকার। এবার পর্যটকের সংখ্যা আগের চেয়ে ছাড়িয়ে গেছে। এবার অন্তত হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা সমকালকে বলেন, পর্যটকের আগমনে রেস্তোরাঁ, শুঁটকি, শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি করা পণ্যের ব্যবসাও চাঙ্গা।

রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায় প্রচুর সংখ্যক পর্যটক। তিন কিলোমিটার সৈকতে হাজার হাজার পর্যটক। উত্তর দিকে সিগাল থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটারে ভিড় করেছেন আরও কয়েক হাজার পর্যটক। অনেকে সৈকতে গোসলে নেমেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতেছেন।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা পল্লব বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে ঈদের আগে পর্যটকশূন্য ছিল কক্সবাজার। ঈদের প্রথম দিনও তেমন সমাগম ছিল না। কিন্তু ঈদের পরদিন শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটন সমাগম দ্বিগুণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেব।’

ইনানী সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক হাবিব কামাল বলেন, পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে কক্ষ পাইনি। ভোগান্তিতে পড়েছি। রাতটা সৈকতেই কাটিয়ে দিয়েছি। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। সমকাল

পাঠকের মতামত