প্রকাশিত: ২০/০৬/২০১৬ ৮:১২ এএম

ukফারুক আহমদ, উখিয়া::

উখিয়া সরকারী হাসপাতালে তীব্র ঔষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বহি:বিভাগ ও অন্ত:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীরা ঔষুধ না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। এমনকি জরুরী বিভাগেও কোন ধরনের ঔষুধ নেই। এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠানে সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত ঔষুধ মারাতœক সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে।

হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল অফিসার জানান, হাসপাতালে ঔষুধ সরবারহ না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা গরীব অসহায় রোগীদেরকে ঔষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাস ধরে উখিয়া হাসপাতালের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার বরাদ্দকৃত সরকারী গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ কেউ নিচ্ছে না। ফলে ঔষুধ গুলো কক্সবাজার সিভিল সার্জন ঔষুধ ভান্ডারে পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল মাবুদের সাথে মোবাইলে (০১৯৬৯৬৫৫৭৭৩) একাধিক বার যোগাযোগ করার পরও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, উখিয়া সরকারী হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী বহি:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে। এছাড়াও অন্ত:বিভাগে ৩০/৪০ জন রোগী ভর্তি থাকে। তৎ মধ্যে শিশু নিউমনিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন বয়েসের মহিলা ও পুরুষ রোগীরা রয়েছে।

ভর্তিকৃত রোগীরা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে কোন ধরনের ঔষুধ দেওয়া হয় না। এমনকি প্যারাসিটামল ও হিস্টাসিন পর্যন্ত পাওয়া যায় না। শুধু মাত্র ডাক্তারগণ ঔষুধ গুলো সাদা কাগজে লিখে দেয়। উক্ত ঔষুধ গুলো বাহিরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে এনে আমাদের চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষ করে শিশুদের স্যালাইন ও ইনজেকশন না থাকায় অনেক শিশু রোগী অকালে প্রাণ গেছে।

নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, উপজেলা সদরে এক মাত্র সরকারী হাসপাতালে ৬ মাস ধরে জরুরী ঔষুধ সংকট থাকা খুবই দু:খ জনক। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার খামখেয়ালি পনা ও দায়িত্বহীনতা কারণে হাসপাতালের করুন অবস্থা হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মাস পূর্বে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাঈন উদ্দিন হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে স্টোর রুম থেকে মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়া লক্ষ টাকার অধিক ঔষুধের সন্ধান পাওয়ায় সবাই হতভাগ হয়েছিল। সুশীল সমাজের মতে সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ গরীব রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা রোগীদের না দিয়ে ফেলে রাখায় এসব ঔষুধের মেয়াদ চলে যায়।

হাসপাতালে কর্তব্য রত নার্সরা জানান, হাসপাতাল থেকে ঔষুধ সরবরাহ না করলে আমরা রোগীদের ঔষুধ দিতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে অসহায় রোগীরা বাহিরের ফার্মেসি থেকে ঔষুধ ক্রয় করে আনে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন ৬ মাস ধরে কেন উখিয়া হাসপাতালে ঔষুধ সংকট ও কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অফিস ভান্ডার থেকে বরাদ্দকৃত সরকারী ঔষুধ উখিয়া হাসপাতালে আনা হচ্ছে না বিষয়টি খুবই উদ্বেগ জনক। জনস্বার্থে উক্ত ঘটনাটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার জন্য সিভিল সার্জনের নিকট জোরদাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

পাঠকের মতামত

মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিষ্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন মোতায়েন

পবিত্র মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিষ্কারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সক্ষম মেশিন মোতায়েন করেছে সৌদি আরব। গত মঙ্গলবার ...

চট্টগ্রামের মেয়ে তুরস্কে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস কমিউনিটির নেতৃত্বে

এক যুগ ধরে তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন তুর্কিয়ের (অ্যাবাস্ট) ...

১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘কু-প্রস্তাব’, শিক্ষককে অবরুদ্ধ

জয়পুরহাটে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘কু-প্রস্তাব’ দেওয়ায় এক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেছে এলাকাবাসী। বুধবার ...

“স্যানিটারী ব্যবসায়ী আবছারের অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ” শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

গত ২৩ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখ দৈনিক আলোকিত উখিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত  “মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ...

৯৫১ ভোটে হেরে গেলেন হিরো আলম

আলোচনায় এসেও শেষ পর্যন্ত অল্প ভোটে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে উপ-নির্বাচনে ৯৫১ ভোটে হেরে গেলেন দেশজুড়ে ...

হে আল্লাহ, সারাদেশের মানুষ তোমার রায়ের অপেক্ষায়: হিরো আলম

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) দুই আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আশরাফুল আলম ওরফে ...