প্রকাশিত: ২২/০৫/২০১৭ ৯:০৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৪৭ পিএম

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম::
উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে ২ ইউনিয়নে কর্মসৃজনের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট চলছেই। কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ পরিচালনা ও তদারকিতে সংশিষ্টরা  পরস্পর যোগসাজসে দায়সারা ভাবে কাজ করে  সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয় করে আতœসাৎ করছে। প্রকল্প কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের কাজে অনুপস্থিত রেখে এবং মাঠে কাজ না করে সরকারী টাকা যেনতেন ভাবে আতœসাৎ ও লুটপাট করছে এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। কর্মসৃজন প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত থাকা কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন না করে অফিসে বসে এসব অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে লুটপাটের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে এ উপজেলায় হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ৪ মে। ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যায় বরাদ্ধে ৩৭ টি প্রকল্পে ১৫শ ৬৫টি জন শ্রমিক কাজ করছে। এতে জালিয়াপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের সপ্তাহে ১/২ দিন কাজ করিয়ে  প্রতি সপ্তাহে ৩ কাজ বন্ধ রেখে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে সরকারী অর্থ আতœসাৎ করে যাচ্ছে। একদিকে সরকারী টাকা আতœসাৎ অন্যদিকে এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না এবং সাধারণ শ্রমিকদের ঠকিয়ে  কর্মসৃজনের নামে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা আতœসাৎ করছে বলে  বরাবরের মতো এবারো অভিযোগ উঠেছে। অতিদরিদ্রদের জন্য এ কর্মসূচীর কাজ প্রতিবারই সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধরা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রসাশনের কর্তাব্যাক্তিদের ম্যানেজের মাধ্যমে লুটপাট চালিয়েছে। বিগত দিয়ে এ প্রকল্পে লুটপাটের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কর্মসৃজন প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি।  এর পরেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রসাশনের শীর্ষ পর্যায়ে ম্যানেজের মাধ্যমে আবারো শুরু করে কর্মসৃজন প্রকল্প। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতি বছরই দুইবার করে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সরকার এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্ত গত ২ সপ্তাহ  কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ অতিবাহিত হলেও জালিয়াপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নে কাজের উন্নয়নের চিত্র ও প্রকল্পের অস্থিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচেছ না এলাকায়। বিশেষ করে রাস্তা নির্মান করার নামে পুরানো রাস্তা গুলোর উপর শুধুমাত্র প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে।  অনেকে ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দিয়ে করানো হচ্ছে ব্যাক্তিগত কাজ। এমনও অভিযোগ রয়েছে. এলাকায় শ্রমিক হিসেবে সরকার দলের নেতাদের নাম দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সংশিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজারকে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। বলতে গেলে ,ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান,মেম্বার,টেক অফিসার ও ব্যাংক ম্যানেজার মিলেমিশে কথিত কর্মসৃজনের কাজ দেখিয়ে সরকারের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রকল্পের নামে দিয়ে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,কর্মসৃজন প্রকল্পের নামে লুটপাটের খবর ভিক্তিহীন। কোথাও কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান,তালিকা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে কিনা যাচাই করব। তা নাহলে  প্রকল্পের টাকা বন্ধ রাখা হবে।

পাঠকের মতামত

রামুর ফতেখাঁরকুলে উপ-নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে প্রচারনায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী

রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি ৩ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া ...

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ দুদকের মামলা

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ স্পেশাল ...