ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৫/০৪/২০২৬ ৫:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইউনুছ উখিয়ার ক্যাম্প-১৯-এর ব্লক ডি/২-এর বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই সীমান্ত এলাকায় আরেকটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সেদিন ভোরে জেলেদের সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাদেকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা যুবকের পা হারানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মো. জাফর বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা শামসুল আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে অনেকেই ঝুঁকি জেনেও নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে এবং সীমান্তের ওপারে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যান। এতে তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা—বিশেষ করে জাইল্যাখালীর শেষ প্রান্ত, শূন্যরেখার চর ও মাছের ঘের, এমনকি ‘নারিকেল বাগান’ এলাকাতেও মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এসব মাইন স্থাপন করেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ উখিয়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোর আহত হয় এবং তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। এছাড়া আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও পৃথক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

বিজিবি জানায়, রোহিঙ্গাদের সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের জেরে উখিয়ায় ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝির বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির অভিযোগ!

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ...

টেকনাফের একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক ...

মোহাম্মদ রশিদ -সভাপতি ও হারুন রশিদ -সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিতউখিয়ায় গয়ালমারা রয়েল এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠিত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন গয়ালমারা রয়েল এসোসিয়েশন-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ...
Single Page Footer