
উখিয়ার প্রধান স্টেশনগুলো—মরিচ্যা বাজার, কোটবাজার, উখিয়া সদর স্টেশন, কুতুপালং, বালুখালী থেকে শুরু করে পালংখালী পর্যন্ত একই দৃশ্য। যানবাহনের ভিড় নিজের মতো এক দিক, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ফুটপাত দখলের বিশৃঙ্খলা। হাঁটার জায়গা নেই, গাড়ির গতি নেই, আর নিয়মকানুন তো বহু আগেই হার মানিয়েছে একদল প্রভাবশালীর ছত্রছায়া।
ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা সারি সারি দোকান যেন এখন স্থায়ী ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের টাকা উঠছে; সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের ব্যক্তিরা। সরকার যেখানে এসব স্থান থেকে রাজস্ব পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টো ভেসে যাচ্ছে কোটি টাকার সম্ভাব্য আয়।
কুতুপালং বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই ফুটপাতসহ সরকারি জায়গায় দোকানপাট বসানো হচ্ছে। কে কত টাকা তুলছে তা বাজারের সবাই জানে, কিন্তু কেউ মুখ খোলার সাহস করছে না। বালুখালী ও পালংখালীর ব্যবসায়ীদের ভাষ্যও একই—ফুটপাত দখল এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা, আর সেই দৌরাত্ম্যই বাড়াচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
কুতুপালং বাজারের আরেক দোকানদার বলেন, পুরো বাজারই এখন কিছু প্রভাবশালীর নিয়ন্ত্রণে। কে কোথায় দোকান বসাবে, কত টাকা দেবে, রাস্তার কোন অংশে কী চলবে—সবকিছুতেই তাদের নির্দেশ। বাজারের নিয়মকানুন, সরকারি বিধি-বিধান—এসবের কোনো গুরুত্ব নেই বললেই চলে। আর সেই প্রভাবশালী চক্রের ক্ষমতার কারণেই উখিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন প্রতিদিন একই বিশৃঙ্খলায় ডুবে থাকে।
যানজটের বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন পথ চলা মানুষদের ক্ষোভ এবার তীব্র। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বয়স্ক পথচারী—সবার অপেক্ষা একটি জিনিস, ফুটপাত দখলমুক্ত স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ। সাধারণ মানুষের দাবি সরাসরি—ফুটপাত জনসাধারণের, এটি কারও ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হতে পারে না।
উখিয়ার জনগণ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। তাদের প্রত্যাশা সহজ—ফুটপাত মুক্ত হোক, সড়ক শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, আর প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটুক।

পাঠকের মতামত