প্রকাশিত: ০৪/০৯/২০২০ ১০:৫৮ এএম , আপডেট: ০৪/০৯/২০২০ ১০:৫৮ এএম

মাহাবুবুর রহমান.
ইয়াবা ব্যবসার প্রসার,আধিপত্য বিস্তার,চাঁদাবাজি, অপহরণ নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোঙ্গিাদের দুটি ক্যাম্প কুতুপালং ও নোয়াপাড়া। গত কয়েকদিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। আহত হয়েছেন অনেকে, হয়েছেন গুলিবিদ্ধও। সব মিলিয়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে ক্যাম্প এলাকায়। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শান্ত রয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উখিয়ার কুতুপালং এবং নোয়াপাড়া ক্যাম্পে আল ইয়াকিনের (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির স্থানীয় নাম) শীর্ষনেতা মুন্না গ্রুপ তিনদিনে ১০ রোহিঙ্গাকে অপহরণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে গত রবিবার সকালে ফিরে এসেছে ছয়জন। তারা হলেন- কুতুপালং রেজি. ক্যাম্পের বি বøাকের রহমত উল্লাহ, ডি বøকের মৌলভী জিয়াবুর রহমান, ছৈয়দ আকবর, এফ বøকের আনিস উল্লাহ ও এজাহার, জি বøকের মো. জসিম। বাকি চারজন এখনো অপহরণকারীদের হাতে জিম্মিদশায় রয়েছেন। এর আগে নূর আলম নামে এক রোহিঙ্গাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে কক্সবাজার পরে চট্টগ্রাম হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি কুতুপালং টু-ইস্ট ক্যাম্পের আহমদ হোসেনের ছেলে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
মোহাম্মদ আলম নামের এক রোহিঙ্গা জানান, ছয়দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তার,ত্রাণের মালামাল বিক্রি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ই-বøকের মোহাম্মদ ফরিদ ও এফ বøকের নুর হাশিম, মাস্টার মুন্না এবং আনরেজিস্টার্ড ক্যাম্পের আল ইয়াকিন নেতা রফিক উদ্দিন, হাফেজ জাবেদ ও সাইফুলের মধ্যে অর্ন্তকোন্দল শুরু হয়। এর পর থেকে ক্যাম্পের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পরিদর্শক মো. সালেহ আহমদ পাঠান বলেন, ‘ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। এটিও তাই। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

অন্যদিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ‘ডাকাত’ দলের মধ্যে গোলাগুলিতে চারজন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নিবন্ধিত নয়াপাড়া ক্যাম্পের ই ও সি ব্লকের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে এইচ ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ, মো. জালাল, সৈয়দ আলম ও আবদুস সালাম।ক্যাম্পের বাসিন্দা মাঝি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই ডাকাত দলের গোলাগুলিতে চারজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় ক্যাম্পের লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তা ছাড়া ক্যাম্পের ডাকাত দল ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এপিবিএন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকাত জকির ও সালমান শাহের দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে চারজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্প স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা অবনতি হওয়ায় কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডাকাতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এদিকে স্থানীয়দের মতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র কিভাবে আসলো কারা এই অস্ত্রের যোগানদাতা সেটা খোঁজে বের করে এখনি কঠোর পদক্ষেপ না দিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে। এ ব্যপারে উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান,গত কয়েকদিন ধরে রোগিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলির ঘটনার কথা শুনছি। আমার মতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই এখন কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র। রোহিঙ্গারাই এখন ইয়াবার পরিবহণ,পাচার এবং বার্মা থেকে আনে। সেই বিষয়ে নিয়ে তাদের মধ্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে ভয়ের কথা হচ্ছে তাদের হাতের অস্ত্র কিভাবে আসলো ? আর যেহেতু মিডিয়ার কাছে সন্ত্রাসীদের নাম পরিচয় আছে তাহলে কেন তাদের এখনো আটক করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী,কিসের জন্য অপেক্ষা করছে ? তিনি আশংকার প্রকাশ করে বলেন,জানিনা ভবিষ্যতে উখিয়া টেকনাফের মানুষের ভাগ্যে কি আছে। সৃত্র: কক্স৭১

পাঠকের মতামত

অতিরিক্ত বোঝাইয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা, বনভূমিতে বাঁশ মজুতের অভিযোগউখিয়ার সড়কে ফের বাঁশবোঝাই ট্রাকের দৌরাত্ম্য

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সড়কে আবারও অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাকের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ট্রাকে নির্ধারিত ...

সীমান্ত নিরাপত্তায় পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি হচ্ছে রামু সেনানিবাস

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা ...
Single Page Footer