আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬/০৪/২০২৬ ৮:৫০ পিএম

ইরান শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে মার্কিন সামরিক বাহিনী জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

হেগসেথ বলেন, ‘ইরান একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারে এবং আমরা আশা করি আপনি ইরানের জনগণের জন্য তাই করবেন। কিন্তু ইরান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর অবরোধ ও বোমা বর্ষণ করা হবে’।

ইরানের অভ্যন্তরীণ সামরিক গতিবিধি মার্কিন নজরদারির মধ্যে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ন্যায্য লড়াই নয় এবং আপনারা কোন সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করছেন ও কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, তা আমরা জানি।’

ইরানি নেতাদের উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছি। আপনারা আপনাদের বাকি লঞ্চার ও মিসাইলগুলো খুঁড়ে বের করছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো নতুন করে তৈরি বা প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই’।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি নিয়ে পুনরায় প্রস্তুত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হেগসেথ আরও জানিয়েছেন, ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে হরমুজ প্রণালিসহ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যতদিন প্রয়োজন হবে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এই নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। হেগসেথ বলেন, ‘যেহেতু ইরানের আর কোনো নৌবাহিনী নেই, তাই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে’।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ‘মার্কিন বাহিনী আক্ষরিক অর্থেই যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।’

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ইরানের পতাকাবাহী যেকোনো জাহাজ অথবা ইরানকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজের পিছু নেবে মার্কিন নৌবাহিনী। শুধু ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে আটক করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে জেনারেল কেইন জানান, ‘যদি আপনারা এই অবরোধ মেনে না চলেন, আমরা শক্তি প্রয়োগ করব’।

তিনি দাবি করেন, অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে ইরানের দিকে যাত্রা করেনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষপটেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি এলো। আলোচেনার আগে ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা জন্য একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

পাঠকের মতামত

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে চান ...

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...
Single Page Footer