প্রকাশিত: ০৮/১২/২০১৬ ৭:৪২ এএম

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি::
ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে সংগঠনটির নাড়ির সম্পর্ক। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ জন্মের দুই যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ছাত্র সংগঠনটি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন তারা। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগও অন্যতম।  বর্তমান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করাতে ছাত্রলীগ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তাতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম একেবারেই স্থবির। এতে অভিভাবকহীন হয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

সংগঠন সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০১৪ সালের জুন মাসের সাবেক সভাপতি রাশেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুজন চৌধুরী সঞ্জয় স্বাক্ষরিত ছোট আকারে ২০সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে ২ বৎসর ৫ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির রূপ নিতে পারেনি।ততে জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সংগঠনকে আরও গতিশীল ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষে গত ৭ নভেম্বার সভাতি চো চু মং মার্মা ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল্লাহ কবির বিন্দুর কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে দেন। তবে কমিটি বিলুপ্তি করে দেওয়ার কারণে কোন ধরনের কাউন্সিরের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবেনা বলে জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানান।

জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৯(খ) ধারাতে উপজেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। উপজেলা শাখাকে যথা সময়ের মধ্যে কমিটি ঘোষণা দিতে না পারলে অন্যথায় নির্বাহী সংসদ কার্যকারিতা লোপ পাবে। এর আগের কমিটিও গঠনতন্ত্রের এ ধারাটি মানেনি।

আর এদিকে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণার পর পরেই সবার দৃষ্টি এ ছাত্র সংগঠনটির শীর্ষ দুটি পদের নেতৃত্বে কারা আসছেন ? এ প্রশ্ন এখন শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নয়, জেলা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছিল।তবে কমিটি ঘোষণা দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপন হওয়াতে সংগঠনটি  অভিবাবকহীন ভাবে চলছে ধীর গতিতে মনগড়া কার্যক্রম। তৃণমূলের ছাত্রলীগের নেতারা আশা করছেন কালক্ষেপন হলেও জেলার নেতারা নিরপেক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের কমিটি ঘোষণা করতে পারচ্ছেন কিনা এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে নানা জল্পনা কল্পনা, কারো আগ্রহের কমতি নেই। কে হতে পারেন ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূলের স্কুল,কলেজসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও তাকিয়ে আছেন নতুন নেতৃত্বের দিকে।

ছাত্রলীগ নেতা ফরিদ উল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোপুরি অভিবাবকহীন ও স্থবির হয়ে পড়েছে। সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগের সিনিয়র অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে কমিটি না হওয়ায় যারা বয়সের কারণে বাদ পড়ছেন তারা ক্ষুব্ধ হতাশ। তবে গত ৬ ডিসেম্বার রাতে হঠাৎ একটি অন লাইন এ বদরুল্লাহ সভাপতি উবাচিং মার্মা সাধারণ সম্পাদক নাম ঘোষণা দেখাতে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান।  কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইছেন না। কথা বললেই তিনি মাইনাস হবেন এমন আশঙ্কার কথা শোনা গেল তাদের মুখে।

গত ৬ ডিসেম্বার অনলাইনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদক নাম ঘোষণার কথা অস্বীকার করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাউছার সোহাগ।

জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, ছাত্রত্বের মেধাবী, ত্যাগী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং স্বচ্ছ ভাবমর্যাদার নেতাদের মধ্যে থেকে নেতা নির্বাচন করতে সাবেক কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর (উশৈসিং )এমপি জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রলীগর নেতৃবৃন্দদেরকে পরামর্শ দেন। তাই নির্ধারিত তারিখে  জীবন বৃত্তান্তসহ যাবতীয় ডকুমেন্ট প্রদানকারীদের মধ্য থেকে যে কেউই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাবেন বলে নিশ্চিত দেন। তারা আরও জানান, আমরা নাইক্ষ্যংছড়ি ছাত্রলীগের পদ ঘোষণা করলে সকল সাংবাদিকদেরকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। চেষ্টা চালাছি তাড়াতাড়ী ঘোষণা দেওয়ার জন্য। তবে কবে নাগাদ কমিটি ঘোষণা দেবে তা জানাননি।

আর ওদিকে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের ‘গুড বুকে’ স্থান পেতে আশপাশে নানা চেষ্টা তদবীর করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কাঙ্খিত পদ পেতে শেষ মুহুর্তের চেষ্টারও কমতি ছিল না কারোরই। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও ছাত্রত্ব ও বয়স বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কঠোর নির্দেশনা থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন অনেকে। যোগ্যতা ও সংগঠক ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নের কমিটি হলে, চোখ দেখা এবং স্বজনপ্রীতি নেতৃত্বের হিসাব-নিকাষ পাল্টে যেতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজাতি-বাঙ্গালী মিলামিল রেখে কমিটি গঠন করতে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপান্তরের কাজ প্রায় শেষ

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় রানওয়ে সম্প্রসারণসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের উন্নয়নকাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। চলতি ...