সিনহা হত্যা মামলা: দুই সেনাসদস্য, এক পুলিশ সদস্য ও দুই ডোমের সাক্ষ্য গ্রহণ

ফাইল ছবি
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আজ সোমবার সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও পাঁচজন। সাক্ষীদের মধ্যে দুজন সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট, একজন পুলিশের কনস্টেবল ও দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের লাশ কাটার ডোম।

এর আগে সাক্ষ্য দেন মামলার ২৬ জন সাক্ষী। কাল মঙ্গলবার আরও ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, পঞ্চম দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রথম সাক্ষ্য দেন সেনাবাহিনীর ৬৩ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট জিয়াউর রহমান। সাক্ষ্যতে তিনি সিনহাকে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন। এরপর সাক্ষ্য দেন সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট আনিসুর রহমান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের লাশ কাটার দুই ডোম আহমদ কবির ও সৈয়দ কালাম মিয়া এবং পুলিশ কনস্টেবল মো. কামরুল হাসান।

সাক্ষীদের সাক্ষ্য (জবানবন্দি) গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফরিদুল আলমসহ তিন আইনজীবী। সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আদালত পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ আসামি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। মামলার মোট সাক্ষী ৮৩ জন। কাল মঙ্গলবার ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হতে পারে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম। সুত্র: প্রথম আলো

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন