ad

যুব সমাজের অবক্ষয় অতঃপর সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান

ইউছুফ আরমান::
বর্তমান নারীদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নারীরা সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখছে। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীর ফলে। আর এর পেছনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসছে বহু দাতা সংস্থা ও এনজিও। এই খবরটা শুনতে ভালো লাগলেও খবরের অন্তরালে রয়েছে ভয়াবহ যত কর্মকান্ড। যা কয়েক বছর আগে ও কক্সবাজারে নারী ছিল সহজ-সরল গ্রামবাংলার রমণী।

অর্থ আর বিলাসিতার প্রলোভনঃ- দেশের অধিকাংশ মানুষ তীব্র দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আর নারী সমাজের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ফলে বিভিন্ন এন.জি.ও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে এই নারীদের কে ভোগ্যপণ্য হিসেবে কাজে নিয়োজিত করে। বিদেশি দাতাসংস্থার অবৈধ কার্যকালাপ বিদেশীরা অর্থ আর বিলাসিতার প্রলোভনে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের সমাজ। তাদের যৌন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সহকর্মী চাকুরীজীবি ও ক্যাম্পে অবস্থানরত সুন্দরীরা। বাদ যাচ্ছে না স্থানীয় বিবাহিত নারীরাও। মাসে যার নূন্যতম ৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা নয়, তাকে ৪০/৫০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে বিদেশী এনজিও কর্তারা ভোগ বিলাসে ব্যস্ততা শেষে একদিন স্বদেশে ফিরে গেলেও কি হবে আমাদের মা-বোনদের ভবিষ্যৎ!

পারিবারিক অশান্তির গল্পঃ- বিভিন্ন এনজিও গুলো তাদের সুবিধাভোগী নারীদের কে নানামুখী পদক্ষেপের সহযোগিতায় উন্নয়নের মুল ধারায় সংযুক্ত করছে। কিন্তু নারীদের এই বিপুল কর্মসংস্থানের ফলে পারিবারিক জীবনে নানা বিশৃংখলা ও অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এনজিওর খপ্পরে পড়ে বহু সংসার ভেঙ্গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইএমও নামে একটি সংস্থা আকর্ষণীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে চাকুরীর জন্য স্বামী স্ত্রী দুজনেই আবেদন করে ইন্টারভিউ দেন। কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাকে চাকুরী না দিয়ে অল্প শিক্ষিত সুন্দরী স্ত্রীকে অধিক বেতনের চাকুরী দেন। এখন তার স্ত্রী নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। চাকুরীর অজুহাতে সকালে বের হলে ফিরেন রাতে। বসদের সাথে চড়েন বিলাসবহুল গাড়ীতে। মাঝে মধ্যে প্রশিক্ষণের কথা বলে একদিন গিয়ে তিন দিনেও আসে না বাড়ীতে এমন বহু সংবাদ পত্রিকায় পড়েছি। শুনেছি অজস্র পারিবারিক অশান্তির গল্প। ফলশ্রুতিতে অনেক পরিবার ভেঙ্গে তছনছ হয়েছে। সুখের ইতিহাস যত বেশি হয় নি তার চেয়ে দুঃখের রচনা বেশি রচিত হয়েছে। এনজিও গুলোর ভ্রান্তনীতির কারণের বর্তমান দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছ। ফলে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান।

নারী কর্মী উর্ধ্বতন পুরুষ বসদের যৌন হয়রানি শিকারঃ- উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির গুলোতে পুরুষ সেবা কর্মী দ্বারা নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মাঝেও যৌন সহিংসতার হারও কম নয়। বিভিন্ন দেশী বিদেশী এনজিও গুলোর অধস্তন নারী কর্মীদের উর্ধ্বতন পুরুষ বসদের এ ধরণের যৌন হয়রানি মূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ অনেক নারী কর্মী চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে নারী সহকর্মীরা। বিশ্বের দাতা সংস্থাগুলো সেবা করতে এসে যত অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকালাপে লিপ্ত। এমতাবস্থায় কক্সবাজার জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

অবৈধ যৌন সম্পর্কঃ- সমাজে নৈতিক মানদন্ড যে সকল আচারণ জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তার মধ্যে ব্যভিচার নিকৃষ্টতম। ব্যভিচার মানুষের চরিত্র ধ্বংস করে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। ব্যভিচার মানুষের শান্তিময় জীবন অসম্ভব করে তোলে। ইদানিং তার দৃশ্যপট কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফের ভাড়া বাসায় জোড়া জোড়া রাত কাটাচ্ছে অনেক এনজিও কর্মী স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে। প্রশিক্ষণের কথা বলে মাসে মাসে তারা সমুদ্র বিলাসে তারকা মানের হোটেলগুলোতে বসায় রসের মেলা। সেখানে দিনে প্রশিক্ষণ রাতে চলে অনৈতিক কারবার। ফলে বিঁষফোড়া রোহিঙ্গা ও ইয়াবা নিয়ে অতিষ্ট কক্সবাজারবাসী। Unlawful Sexual Intercourse বা নারী পুরুষয়ের অবৈধ যৌন সম্পর্কের ফলে স্থানীয়দের বেদনা বাড়ছে দিন দিন।

সামাজিক নিরাপত্তাহীনায়ঃ- বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে সরকার তার জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে পারে নি। ফলে নারীরা যখন বিপুল পরিমাণে ঘরের বাইরের কাজে অংশ গ্রহণ করছে। ঠিক তখনি এনজিও গুলোতে বিভিন্ন পদে লোভনীয় ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগও কম নয় একশ্রেণীর এনজিও এবং বিদেশী সংস্থার দাতা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভূক্তভোগী নারীদের কেউ কেউ চাকুরী পেলেও আবার বেশির ভাগ নারী সামাজিক লাজ লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে না পেরে নীরবে চোখের জল ফেলছে সম্ভ্রম হারিয়ে। ক্যাম্প গুলোতে রোহিঙ্গা কিশোরী, যুবতী এমনকি মধ্য বয়সী সন্তানের জননীরাও অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষিত হচ্ছে। অনেকে লোক লজ্জায় কাউকে না বলে ভয়ানক বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে।

সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশঃ- নারীদের সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এখানে পদে পদে নারীদের পুরুষের তীব্র লালসার শিকার হতে হয়। ফলে যারা ঘরের বাইরে কাজে যায় সমাজ তাদের ভালো চোখে দেখে না। তা ছাড়া এনজিও কর্মীরা অতিরিক্ত বেতন পেয়ে বেপরোয়া জীবন যাপন করারও নজীর আছে। এনজিও গুলো অধঃপতিত নারী সমাজ কে উন্নয়ণের মুলধারায় সম্পৃক্ত করতে গিয়ে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার অভাবে ভুল পথে ঠেলে দেয়।

পরিশেষে বলা যায়, এনজিও আমাদের কক্সবাজারে মানবতার সেবার জন্য যতটুকু আশিবাদ হয়েছিল বরং তার চেয়ে বেশি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। কারণ কক্সবাজারে এনজিও চাকুরীর সুবাধে তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশায় যুব সমাজের অবক্ষয় ঘটেছে বিধায় সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান।

লেখক পরিচিত
ইউছুফ আরমান
কলামিষ্ট, সাহিত্যিক
শিক্ষানবিশ আইনজীবী
ফাজিল, কামিল
বি.এ অনার্স, এম.এ, এল.এল.বি
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী
বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়
০৬ নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার
০১৬১৫৮০৪৩৮৮


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব উখিয়া নিউজ- এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য উখিয়া নিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

ad