ad

উখিয়ার চাকরি মেলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড়

উখিয়ায় সদ্য সমাপ্ত চাকরি মেলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচন সমালোচনার ঝড়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কয়েকটি স্টার্টাস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন

উখিয়ার শিক্ষিত চাকরী প্রত্যাসী দেরকে ধন্যবাদ ধৈর্য্যধারনের জন্য এতবড় প্রতারনার শিকারের পর ও এখনো শান্ত আছে

এম জসিম উদ্দীন
চাকুরি মেলায় যারা সিলেক্ট হয়েছে তাদের ডিটেইলস ঠিকানা ছবিসহ প্রকাশ করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জাহেদুল ইসলাম জাহেদ লিখেছেন
আজকে উখিয়াতে চাকরি মেলা হয়েছে। মূলত এনজিওর চাকরিই এই মেলার প্রধাণ আকর্ষণ। মেলাটা স্থানীয়দের (উখিয়া-টেকনাফ) একটা ছোটখাটো আন্দোলনের ফসল। যোগ্যতা অনুসারে স্থানীয়দের প্রাধান্যের ভিত্তিতে চাকরি নতুন কোন ঘটনা নয়। উখিয়া-টেকনাফের মানুষ যেভাবে এই আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সমস্যার ‘স্থানীয় বলিতে’ পরিণত হয়েছে, তার নমুনা জনসংখ্যা অনুপাত (স্থানীয়ঃ রোহিঙ্গা= প্রায় ১ঃ২.৫/৩) দেখে অনুমেয়।

রাস্তাঘাটের চরম বেহাল দশা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি কিংবা পরিবেশের চরম বিপর্যয়ের বিপরীতে নামমাত্র সরকারি আর বেসরকারি প্রকল্পের নামে মুলা ঝুলিয়ে রেখে স্থানীয়দের ক্ষতির বিপরীতে প্রাপ্তিটা অতি যৎসামান্য। সব সংস্থাই রোহিঙ্গাদের কথার পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য কাজ করার কথা বলে। কিন্তু এই কেতাবের গরু কবে বাস্তবে আসবে সেটাই তো বড় প্রশ্ন। হাতেগুনা কয়েকটা প্রকল্প থাকলেও উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছাচ্ছেনা তা এসব প্রকল্পের নির্মোহ প্রকল্প মূল্যায়ন করলেই বের হয়ে আসবে।

এক, চাকরি মেলার সূচিতে কেনো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের লম্বা বক্তৃতার ব্যবস্থা, তা শুনতে বাধ্য করা- এসব রঙ্গ তো স্থানীয় ছেলেমেয়েরা দেখতে চায়নি।

দুই, কারো প্রতি অনুরাগী বা বিরাগী না হয়ে, ‘স্থানীয়’ শব্দটা আসলে কি বুঝায় তাও প্রশাসনের মেলার পূর্বেই পরিষ্কার করা উচিৎ। মূল চাপটা পড়েছে দুইটা জায়গায়- উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা। তো পুরো কক্সবাজার জেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়াটা তো মূল সমস্যাকে পূর্বের মতোই রেখে দিলো।

তিন, ধারণা করা হচ্ছে ৫০০০ মতো সিভি জমা পড়েছে। এর মধ্য থেকে ১০০০ মতো সিভি এন্ট্রি করা হয়েছে। নিয়োগ কত দিবে? বড়জোর ৩০০?

৩০০ চাকরি দিয়ে স্থানীয়দের দুর্দশার লাঘব করে ফেলবেন প্রশাসন? খুব দুঃখজনক।

চার, কিছুদিন আগে আমার কয়েকজন বন্ধু যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে সেখানে চাকরির আবেদন করেছিলো কয়েকটা এনজিও তে। খুব অবাক করা বিষয় ছিলো, এপ্লিকেশন ডেডলাইনের ৪-৫ দিন আগেই নিয়োগই শেষ করে ফেলেছে এর একটা এনজিও। এমন অহরহ ঘটনা সেখানে ঘটছে। এটা একটা উদাহরণমাত্র। স্রেফ ফাত্রামী এগুলো!

পাঁচ, যে চাকরিগুলো সেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই হলো অল্প বেতনের, স্বল্প সুবিধার চাকরি। এই চাকরিগুলোর জন্যই তো স্থানীয় ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করেনি।

মেক্সিমাম এনজিওতে এখন যে নিয়োগগুলো হচ্ছে, ওপেন সিক্রেট হলো বেশিরভাগ পার্সোনাল যোগাযোগের ভিত্তিতে। আর পদের সংখ্যাও সামান্য। আপনারা স্থানীয়দের জন্য প্রকল্প নেন বা না নেন, অন্তত স্থানীয় শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের চাকরিটা দিয়ে তাদের ভোগান্তি কিছু লাঘব করতে পারেন।

কেউ কেউ এসে পরিসংখ্যান দিতে শুরু করতে পারেন, এই বিশাল (!) পরিমাণ স্থানীয়দের সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু সেটা যে কত বিশাল তা ভালোই জানা আছে।

ছয়, স্থানীয় ছেলেমেয়েদেরও মনে রাখা উচিত, রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের কোন বিদ্বেষ কাম্য নয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মূলত একটা বিপদগ্রস্ত জনগোষ্ঠী।তাদের প্রতি কোন খারাপ মন্তব্য করাটাও অনুচিত।

আপনাদের মূল বার্গেইনিংটা হওয়া উচিত সরকারের প্রশাসন আর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সাথে।

বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষ একত্রিত হয়ে, এক-দুইদিনের আলোচনার ব্যবস্থা বা ডায়ালং করা গেলে, সব পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থান তোলে ধরতে পারতো আর স্থানীয়রাও তাদের দাবীগুলো যথাযথভাবে বলতে পারতো।

সর্বশেষ, প্রশাসনের এটা মাথায় রাখা উচিত, উখিয়া-টেকনাফের মানুষ যে ভোগান্তিতে আছে, তা লাঘবের দায়িত্বও তাদের উপর বর্তায়। সুতরাং এসব সো-কল্ড মেলা টাইপ কর্মসূচি না নিয়ে বাস্তবধর্মী কিছু উদ্যোগ নেন। স্থানীয় এলাকার মানুষের ক্ষোভ চরম লেভেলে পোঁছালে, সামলানোতে কষ্ট আপনাদেরই হবে শেষে।।

তানবির শাহরিয়া লিখেছেন

উখিয়ায় জব ফেয়ার নামে কোটি টাকার বানিজ্য করে গেছে কতিপয় মহল! নিন্দা জানাচ্ছি,,,,

আবুল ফজল মেম্বার লিখেছেন
প্রচন্ড রোদে কবরস্থানে লাশ সামনে রেখে বক্তব্য দেওয়ার মত
চাকরি প্রার্থীদের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে বক্তব্য শুনিয়ে মেলা’র সমাপ্তি।

    মিজানুর রহমান জামি লিখেছেন

চাকরী মেলার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম এবং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই।সবিই ছিল সাজানো নাটক।কি দরকার ছিল এই নাটকের!

ad