ad

১৮ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আটক

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
কক্সবাজার থানা পুলিশ গতরাতে (শুক্রবার রাতে) একটি বড় ধরনের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলকে আটক করেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে এই দলটির সশস্ত্র সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিপক্ষকে খুন-খারাবি, ছিনতাই, রাহাজানি, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের দলে ১৮ সদস্য রয়েছে। তাদের কক্সবাজার থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শিবিরের দুর্ধর্ষ এ রোহিঙ্গার দলটি ধরা পড়ার পর গভীর রাতে রোহিঙ্গা শিবিরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন রোহিঙ্গা জানান-‘পুলিশের হাতে আটক দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গারা এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কুতুপালং শিবির থেকে একটি মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে রাতে বের হয়ে পড়ে। এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা সবাই মিয়ানমার সরকারের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে ঘাপটি মেরে প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল। ’

শিবিরের সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ হচ্ছে যে, পুলিশের হাতে আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের কারনেই সাধারণ রোহিঙ্গারা দেশে ফিরতে পারছে না। আতাউল্লাহ নামের একজন কথিত কমান্ডার এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রধান নেতা হিসাবে কাজ করে থাকেন। আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল জলিলের ছেলে কমান্ডার রশিদুল্লাহ, আবদুস শুকুরের ছেলে ইউনুস, রফিক ও লিয়াকত আলী। তারা সবাই শিবিরের সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে এক মূর্তিমান আতংক হিসাবে রয়েছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য ঈদ উপলক্ষে প্রত্যেককে ২০/২৫ হাজার টাকা করে ঈদ বখশিস দেওয়া হয়েছে। এ টাকায় তারা ঈদ উপলক্ষে এদেশের মানুষের মতো করেই শিবির থেকে বের হয়ে মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে বেড়াতে বের হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও টেকনাফ মহাসড়কের লিংক রোড স্টেশন থেকে রাতে পুলিশ তাদের আটক করে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার ১৮ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন-‘ তারা কোনো না কোনো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে খবর পেয়েই আমরা তাদের আটক করেছি। তারা কোনো উগ্র পন্থায় জড়িত কিনা তা নিশ্চিত হতে তাদের আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিম্যান্ডে আনা হবে। ’

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন