উখিয়ায় ১৮ জোড়া রোহিঙ্গার ‘গণ বিয়ে’

বার্তা পরিবেশক :
গণবিবাহ আয়োজন নিয়ে ক্যাম্প ১৪, হাকিমপাড়া এক অভুতপূর্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমঝোতার মাধ্যমে পরিবারের সম্মতিতে ১৮ টি বিবাহের প্রস্তুতি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়। এই মহৎ উদ্যেগী কার্যক্রমে ক্যাম্প-ইন-চার্জ মোঃ আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। সাথে সহায়তায় ছিল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoCWA), Christian Aid ITechnical Assistance Inc.(TAI)।
ক্যাম্প ১৪, হাকিম পাড়ায় বসবাসরত শরণার্থীদের আন্তরিকতায় ১৮টি দম্পতির বিবাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ প্রমানিত হওয়ার পরই তারা বিবাহের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত (১৬ এপ্রিল) মঙ্গলবার ক্যাম্প প্রধান একসাথে সকল দম্পতির বিবাহের পিড়িঁতে বসার ব্যবস্থা করার উদ্যেগ নেন। অবশেষে সকল অপেক্ষার প্রহর স্তব্দ করে বিবাহের আয়োজন সম্পন্ন করার জন্য ঞঅও নামক উন্নয়ন মূলক সংস্থার ক্যাম্প কমিউনিটি সেন্টারে স্থান নির্ধারণ করা হয়।
উক্ত মহৎ গনবিবাহ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রান ও পূর্নবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব)। তিনি পাত্র-পাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং বিবাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর খেঁজুর ও জিলাপি খাইয়ে বিবাহ উত্তর আয়োজনকে আনন্দময় করে তোলেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সামাজিক এই ব্যতি ক্রমি উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্প-ইন-চার্জের ভূয়সীপ্রশংসা করেন। সহযোগী হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তা এবং TAI ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের আরো বেশী উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহন করে রোহিঙ্গা কমিউনিটির পাশে থাকার আহ্বান জানান।
গনবিবাহ অনুষ্ঠানটি বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত উৎসব মূখর ছিল। শরণার্থী মেহমানদের আপ্যায়নে খেজুঁর ও জিলাপি দেয়া হয় এবং ফটোসেশন এর মাধ্যমে তাদের বরণ করার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিক আয়োজন থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা শরনার্থী বিয়েতে অংশগ্রহন করে।

ad