ad

বারো হাজার শিক্ষার্থীর একত্রে বিয়ে!

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে সবই হয় ওপরওয়ালার ইচ্ছায়। আমরা আমাদের মতো উৎসব কিংবা দিবস পালন করি। কিন্তু বিয়েটা হয় একেবারে তার ইচ্ছায়। কিন্তু এমন কী ইচ্ছা তিনি লিখে রেখেছেন, যেখানে একই দিনে একই দেশের ১২ হাজার শিক্ষার্থী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন? খুব অবাক লাগছে তাই না! হুম এমনই এক খবর বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যেখানে খবর হয়েছে, একই সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার্থী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাও আবার একই স্থানে।
চলুন একটু খুলে বলি, ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরান। এই ইরানেও আমাদের দেশের মতো বিবাহ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। হয়ত স্টাইল খানিকটা ভিন্ন তবে নিয়মকানুন একই। কাবিননামা, আকদ, কবুল সব আছে সেদেশেতে। তবে নিয়মকানুন একই হলেও এবার ঘটনা ঘটেছে পুরোপুরি ভিন্ন।

তা হলো, গতমাসের মাঝের দিকে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাঁকজমকপূর্ণ দিন উদযাপন করা হয়। ওই দিনটি ছিল তাদের জন্য বেশ স্মরণীয়। সেদিন ‘বিয়ে উৎসব’ নামে একটি উৎসব সেখানে সংঘটিত হয়। আর তাতে যে বিষয়টি সবার নজর কাড়ে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিয়ে করার হিড়িক। সেই উৎসবে দেশটির কয়েক হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে এটি শুধু এই বছরই নয় প্রত্যেক বছর ইরানে এ ঘটনা ঘটে। অনেকেই অপেক্ষা করেন এই দিনটির জন্য। সে দিন আসলে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সে ধারাবাহিকতায় ‘জান্নাত পর্যন্ত সহযাত্রী’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিবাহ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারের উৎসবটি ছিল তাদের ২২তম উৎসব। তার মানে প্রায় ২২ বছর ধরে এই ঘটনা ঘটছে ইরানে। তবে মজার ব্যাপার হলো, এবারের উৎসবটি সবচেয়ে বড় রেকর্ড সৃষ্টি করে। কারণ, এই উৎসবে এবার সাড়া ফেলে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বিবাহ।

ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, গত ১১ মার্চ এই উৎসবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থীসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিবাহ কাজ সম্পন্ন করেন। যা অতীতের তুলনায় অনেকগুণে বেশি। যার ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সাড়া ফেলেছে সেই বিয়ে উৎসবটি।

এর আগে, ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটিতে আলেম সমাজ তারুণ্যের নৈতিক উন্নতির প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়। যার ফলস্বরূপ বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে এ ধরনের ‘বিবাহ উৎসব’ চলে আসছে। খুব সাধারণ নীতিতে সেই বিয়ে করানো হয়। যাতে অনেক ধূমধাম করে ঢাকঢোল বাজিয়ে বিয়ে করতে না হয়, তাই এই ধরনের আয়োজন করেন তারা। প্রতিবছর এতে অনেক যুগলের সমাগম ঘটে। তবে এই বছর রেকর্ড সংখ্যক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে প্রতি বছর এ ‘বিবাহ উৎসবের’ আয়োজন করা হয়ে থাকে।

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের পরস্পরের কাছাকাছি আসার অনেক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে দেশটি। এখানে পরস্পর চিন্তাবিনিময়ের সুযোগ ঘটছে; যেসব বিষয়কে একটি ছেলে বা মেয়ে গুরুত্ব পায়। তাছাড়া একটি মেয়ে ও ছেলে কেমন হবে, তা অনায়াসে জানা যায়। এই কারণে, সব বুঝে শুনে এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে ইরান। যেখানে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আগে থেকে তাদের পরিচিত হবে। তবে বিয়ে করবে এই সময়টাই এসে। আর সেখানে থাকবে না কোন ঢোলের শব্দ, থাকবে না কোন বিশাল আয়োজন। আর এই খরচটি বহন করবে সেই দেশ নিজেই। তাই প্রতিবছর এই আয়োজনটি করে বাবা-মায়ের কষ্ট কমান ইরান সরকার। আর এই বিয়ের সিস্টেম হলো, তাতে কাজি বিয়ে পড়াবে আর সবাই কবুল বাণী পাঠ করবে। এভাবে একত্রে সবার বিয়ে একই মজলিশে সম্পন্ন হবে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকবে, তবে তারা দর্শক হসেবে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন