প্রকাশিত: ০২/০৪/২০২০ ৩:২২ পিএম

করোনাভাইরাস মানব জাতির ঘুম কেড়ে নিয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে একদিনে সবচেয়ে বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে গতকাল। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম একদিনে এক লাখের বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলো।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, মৃত্যুর সংখ্যার হিসেবেও গতকাল সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে সারাবিশ্বে। মারা যাওয়া ছয় হাজারের বেশি মানুষের অর্ধেকের বেশিই স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রে। এনিয়ে করোনাভাইরাসে ৪৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ১ এপ্রিলের আগে মার্চের শেষ সাতদিন গড়ে প্রতিদিন সংক্রমণ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের মধ্যে। গড়ে প্রতিদিন মারা গেছে প্রায় ৩ হাজার মানুষ। ১ এপ্রিল প্রকাশিত হওয়া ৩১ মার্চের পরিসংখ্যানে একদিনে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হিসেব পাওয়া যায় এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিনে চার হাজার ছাড়ায়। গত ২৪ ঘন্টায় প্রথমবারের মতো একদিনে এক লাখের বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই নতুন করে সংক্রমণ ঘটেছে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে।

৩১ মার্চের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় অনুমান প্রকাশ করেছিল ভাইরাস সংক্রমণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে সারাবিশ্বে সংক্রমণের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও ৫০ হাজার ছাড়াতে পারে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষের মধ্যে এবং ৪৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের কী অবস্থা?

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র শুরুতে চীনে হলেও এখন পরিস্থিতির প্রায় শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন। বর্তমানে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালি। দ্রুত অবনতি হচ্ছে স্পেন, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়ামসহ আরো বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের পরিস্থিতিরও। কোভিড-১৯ রোগে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। ইতালিতে ১৩,১৫৫, স্পেনে ৯,৩৮৭, যুক্তরাষ্ট্রে ৫,১১৬, ফ্রান্স ৪,০৪৩, চীন ৩,৩১৬, ইরান ৩,০৩৬, যুক্তরাজ্য ২,৩৫৭, নেদারল্যান্ডস ১,১৭৩, জার্মানি ৯৩১ মৃত্যু ও বেলজিয়াম ৮২৮ জন মনুষ মারা গেছেন।

পাঠকের মতামত