এই গরমে তরমুজ ডায়েট

বসন্ত শেষে পথে। গ্রীষ্ম আসছে গরমের তীব্রতা নিয়ে। আর গরম আসা মানেই আম, জাম, লিচুসহ রসালো সব ফলের সমাহার। এছাড়াও তরমুজ এসময়ের জন্য দারুণ সুস্বাদু এক ফল। আকারে বড় এই ফল তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা, মিষ্টি এবং সুস্বাদু। সবচেয়ে আশার কথা হলো, যারা বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য তরমুজ হতে পারে দারুণ এক ডায়েট। ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করতেও সাহায্য করবে তরমুজ ডায়েট।

তরমুজ ডায়েট
যারা রাতারাতি ওজন কমাতে চান তাদের জন্য তরমুজ ডায়েট আদর্শ। যারা শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূরে রাখতে চান তাদের জন্যেও এটা কার্যকরী। তবে এক্ষেত্রে খাওয়ার পরিমাণটাও মাথায় রাখতে হবে।

ডায়েট প্ল্যান
তরমুজ ডায়েট প্ল্যান দুই ধরনের। লং টার্ম ও শর্ট টার্ম ডায়েট প্ল্যান। লং টার্ম প্ল্যানের আবার দুটি ধাপ রয়েছে।

লং টার্ম প্ল্যান কি
লং টার্ম প্ল্যানের প্রথম তিন দিন শুধু তরমুজ খেয়েই থাকতে হবে। যদি কোনও শারীরিক সমস্যা না দেখা দেয় তাহলে তরমুজ ডায়েট চালিয়ে যেতে পারেন।

ষষ্ঠ দিনে তাঁর সঙ্গে সকালের নাস্তায় রাখুন ওটমিল বা টোস্টের চিজ স্লাইস। দুপুরে রাখুন বয়েলড চিকেন বা মাছের সঙ্গে স্যালাড। দিনের মাঝে স্ন্যাকস হিসেবে ২-৩ টুকরো করে তরমুজ খেতে থাকুন। আর ডিনারে শুধু তরমুজই রাখুন।

শর্ট টার্ম প্ল্যান কি
এক্ষেত্রে ৫ দিন তরমুজ ডায়েট মেনে চলতে হবে। ব্রেকফাস্টে এক টুকরো টোস্ট ও তরমুজ। কিছুক্ষণ পর গ্রিন টি বা ব্ল্যাক কফি। দুপুরে বয়েলড চিকেন। রাতের খাবারে ১০০ গ্রাম ভাতের সঙ্গে সবুজ শাকসবজি বা ১০০ গ্রাম মাছ। সঙ্গে অবশ্যই ২ টুকরো তরমুজ।

এই ডায়েটের উপকারিতা কি
সাধারণত ৫ দিনের জন্যই এই ডায়েট মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি তাড়াতাড়ি মেদ কমায় এই ডায়েট। তরমুজের ৯২ শতাংশ পানি, ৬ শতাংশ চিনি ও ২ শতাংশ ফাইবার। তরমুজের জল শরীর থেকে টক্সিন দূর করার পাশাপাশি খিদে কমাতে সাহায্য করে। ফাইবার পেট ভরা রাখে অনেকক্ষণ।

কার্যকারিতা
ক্লান্ত শরীরে এই ডায়েট খুব ভাল কাজ দেয়। তবে এই ডায়েট চলাকালে শরীরচর্চা না করাই ভালো। তরমুজের মধ্যে থাকে এল-কোরালিন। যা শরীরে এল-আর্জিনিনে রূপান্তরিত হয়। এই এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে পেশী প্রসারণে সাহায্য করে। ফলে ব্যথা কমে।

যাদের জন্য নয় এই ডায়েট
গর্ভবতী মহিলারা এই ডায়েট এড়িয়ে চলুন। যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ও বাচ্চাদের এই ডায়েট এড়িয়ে চলা উচিত।