২১ ফেব্রুয়ারীর ছুটিতে কক্সবাজারে মিলছে না রুম : পর্যটক হয়রানির শংকা

নিউজ ডেস্ক::
শীতের শেষ আমেজ আর একুশে ফেব্রুয়ারি ছুটি সামনে রেখে পর্যটন শহর কক্সবাজারে কয়েক লাখ পর্যটক আগমন ঘটবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে। আর পর্যটকদের বাড়তি চাপ বাড়ার আশায় পর্যটন এলাকাখ্যাত কক্সবাজারের কলাতলীর ছোট-বড় চারশতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজের কক্ষ আশ্চর্য্যজনকভাবে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এ কারণে আগামী ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির ছুটিতে কক্সবাজারে হোটেল পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়বে এটা এক প্রকার নিশ্চিত। এরি মধ্যে প্রতিটি হোটেলের ভাড়া(নরমাল) সর্বনিম্ন সাড়ে তিন হাজারে ঠেকেছে। কিছু হোটেলে ভাড়াত ৭ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি ছুটিতে পর্যটকদের থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় ও পর্যটক হয়রানি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। সরেজমিনে গত কয়েকদিন হোটেল-মোটেল জোনে ঘুরে এ নৈরাজ্যকর অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে।এ কারণেও দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি পর্যটক আগমণ যেন কক্সবাজারবাসীর জন্য ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলাতলীর পর্যটন ব্যবসায়ীদের সাথে কথাবলে জানা যায়, অতীতের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবছর শীত ও সরকারী ছুটিসহ নানা ছুটিতে ব্যাপক সংখ্যক পর্যটকের ভিড় হয় কক্সবাজারে। কিন্তু এবার শীতের শেষ আমেজ আর ২১ ফেব্রুয়ারীর ছুটির কারণে হোটেলগুলোতে ইতোমধ্যে অগ্রীম বুকিং এর জন্য ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ কারণে কক্সবাজারে এবার কয়েক শত কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আশা করছেন।তবে অতিরিক্ত ভাড়ার ব্যাপারটিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের দাবী বেড়াতে আসলে কিছু টাকা খরচ হতেই পারে। এটা দোষের কিছু না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৫’শ হোটেল ও রেস্তোঁরা রয়েছে । আর প্রতিটি হোটেল-মোটেলে নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট রাখার নিয়ম থাকলেও কোন হোটেলেই তা দেখা যায়নি। হোটেল ডায়মন্ড,গ্যালিক্সি,বীচ ওয়ে,বীচ রিসোর্ট,হোয়াইট অর্কিড সহ অসংখ্য হোটেলে ঘুরে দেখা গেছে আগামী ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের কোন কক্ষই খালি নেই। আর এসব হোটেলে প্রতিটি রুম(নরমাল) সাড়ে তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে দাবী করা হয়।

কলাতলীতেরেুম বুকিং দিতে কয়েকজন অভিযোগ করে জানান,২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির জন্য কোন রুমই পাওয়া যাচ্ছেনা। যে কয়েকটি পাওয়া যাচ্ছে তার দাম ৭ হাজার চাওয়া হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন,পর্যটন মৌসুমে হোটেল মোটেল অতিরিক্ত অর্থ আদায় প্রকাশ্যে চলছে। বিশেষ করে কলাতলী কেন্দ্রীক হোটেল ও রেস্তোঁরাগুলোতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চালানো হচ্ছে গলাকাট বাণিজ্য।

যেসব হোটেল সাধারণত ৬’শ থেকে ৮শ টাকা রুম ভাড়া নেয়া হয় সে সব তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বলেও পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ রুম হোটেল মালিকরা ধরে রেখেছে আর কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীর হতে চলে গেছে। তবে এ জন্য তারা প্রশাসনের দূর্বলতাকে দায়ী করছেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার কক্সবাংলাকে জানান,শহরের আবাসিক হোটেল,কলাতলীর গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারী রেস্ট হাউসে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। দুই-তিন দিনের ছুটি পেলেই কক্সবাজারে পর্যটকে ভরে যায়। তাই এবার ২১ ফেব্রুয়ারীর ৩ দিনের ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসতে পারে। ইতিমধ্যে প্রায় হোটেলে বুকিং হওয়া শুরু হয়েছে। আশাকরি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান,শহরের আবাসিক হোটেল,কলাতলীর গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারী রেস্ট হাউসে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। দুই-তিন দিনের ছুটি পেলেই কক্সবাজারে পর্যটকে ভরে যায়। তাই এবার ২১ ফেব্রুয়ারীর ৩ দিনের ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসতে পারে। ইতিমধ্যে প্রায় হোটেলে বুকিং হওয়া শুরু হয়েছে। আশাকরি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজারের তারকামানের হোটেলের এক কর্মকর্তা কক্সবাংলাকে জানান,তাদের হোটেলগুলোতে নির্ধারিত মূল্যেই ভাড়া দেয়া হয়। তিনি রুম ভাড়ার মুল্য তালিকা প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন,পর্যটন শহরে কোন হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউসে রুম ভাড়ার কোন মুল্য তালিকা টাঙ্গানো হয় না। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটরা আনসিজনে অভিযান চালান না। কিভাবে হোটেল ব্যবসায়িরা চলছে তাও খবর রাখেন না।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন -টোয়াক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান- যেহেতু ২১ ফেব্রুয়ারীর ৩ দিনের ছুটি থাকবে তাই ভ্রমণ পিপাসুরে কক্সবাজারে ছুটে আসবেই। এ বিববেচনায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী,সাফারী পার্ক, মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক,সোনাদিয়া,রামু বৌদ্ধ বিহার-রামকোট ও মহেশখালীর আদিনাথে পর্যটকদের ঢল নামবে।

২১ ফেব্রুয়ারীর ছুটিতে পর্যটক হয়রানি রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত’র নজরদারী থাকবে বলে বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট সভাপতি মো: কামাল হোসেন। পর্যটকদের হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরায় মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। এসব তদারকিতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার পরেও ব্যবসায়ীরা অনেক সময় এগুলো মানতে চায় না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা ও ভেজাল খাবার পরিবেশন করলে ব্যবস্থা নেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ad